কোন ‘নতুন’কে মালা দেবে ফেডারেশন কাপ?

বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজন (বাঁয়ে) ও রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানীটিভিএস কাপ ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে কে জিতবে? বসুন্ধরা কিংস, নাকি রহমতগঞ্জ। আগামীকাল রবিবার বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্রফির জন্য লড়বে দুই দল। তবে যেই জিতুক না কেন, তাদের হাতে প্রথমবারের মতো উঠবে এই ট্রফি। বসুন্ধরা গতবার ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আর রহমতগঞ্জ নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেই প্রথমবার খেলতে নামছে ফাইনাল।

শেষ লড়াই যেহেতু, দুই দলই জিততে চাইবে শিরোপা। তবে ধারে ও বাড়ে বসুন্ধরা যে এগিয়ে আছে, সেটি নিয়ে সংশয় সামান্যই। কী নেই তাদের! ডাগআউটে পরীক্ষিত বিদেশি কোচ। মাঠে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে উঁচুমানের বিদেশি। যারা যেকোনও সময় ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।

গতবার রক্ষণে যা একটু সমস্যা ছিল তাদের। এবার তপু বর্মণ ও ইয়াসিন খানকে এনে সেই জায়গাটাও ভরাট করা গেছে। গ্রুপ পর্ব বা কোয়ার্টার ফাইনাল যেমন-তেমন সেমিফাইনালে বসুন্ধরা দারুণ খেলেছে। তিন গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নবাগত পুলিশ এফসিকে।

অন্যদিকে ‘মিনোস’ তকমা নিয়ে একের পর এক ‘দৈত্য’ বধ করে যাচ্ছে রহমতগঞ্জ। আবাহনী-মোহামেডানসহ কোনও দলকেই ছাড় দিতে চায় না। তাদের রয়েছে সৈয়দ গোলাম জিলানির মতো একজন ট্যাকটিসিয়ান। যিনি বড় দলকে নাস্তানাবুদ করে এরইমধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছেন। তাই আগামীকালও যে বসুন্ধরার বিপক্ষে ‘অঘটন’ ঘটবে না, তা বলা কঠিন।

বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন নিজের দলকে নিয়েই ভাবছেন বেশি,‘ আমরা যদি প্রথমার্ধে গোল করতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষে ফাইনালে ওঠা কঠিন হবে না।’

রহমতগঞ্জকে যদিও হেলা-ফেলা করার সুযোগ তার নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া ফেডারেশন কাপে দলটির খেলাও দেখেছেন। তাই বলেছেন,‘আমরা একে অন্যকে ভালো করে চিনি। মাঠে আগেও আমাদের দেখা হয়েছে। তারা সুসংগঠিত থাকে মাঠে। তাদের কোচও ভালো। যিনি দলকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন। এছাড়া তাদের কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে।’

ফাইনালের আগে রহমতগঞ্জ একদিক দিয়ে এগিয়ে আছে। তারা তিনদিন বিশ্রাম পেয়েছে, বসুন্ধরা দুই দিন। ব্রুজনের মন্তব্য, ‘আমি মনে করি না ম্যাচটি ৫০-৫০ হবে, তারা তো একদিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে। ফাইনালের আগে শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সাবধানী হতে হবে। আমরা ম্যাচ জেতার জন্য মাঠে যাবো। তারা ম্যাচটি কঠিন করে দিতে পারে। তবে আমরা সেই সুযোগটি দেবো না।’

রহমতগঞ্জ ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়েছে। এখন শিরোপা জিতে ছাড়িয়ে যেতে চায়  আগের অর্জনকে। দলের কোচ জিলানিকে ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী লাগল, ‘টানা ম্যাচ খেলার কারণে আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় কিছুটা চোট পেয়েছে।তবে তাদের চোট গুরুতর নয়। আমার দলের মূল শক্তি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত সমন্বয়। দেখা গেছে একজন ভুল করলেও আরেকজন এসে সেটা কভার করে নিচ্ছে। আমরাও জয়ের জন্য মাঠে নামবো। দেখা যাক কী হয়।’

বসুন্ধরাকে শক্তিশালী মেনে কোচ বলেছেন, ‘বসুন্ধরা কিংস শুধু শক্তিশালীই নয়, দেশের সেরা দল। জাতীয় দলের ফুটবলার আছে, আছে বিশ্বমানের ফুটবলার। তাদের সমীহ করতেই হয়। তবে মাঠের খেলায় কোন বড়-ছোট নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব।’