এবার লেমোস আছেন, আবাহনীর ভয় কী?

আবাহনীর কোচ মারিও লেমোসমালদ্বীপের কোনও ক্লাবদল সামনে এলেই আবাহনী লিমিটেড যেন কিছুটা অসহায় হয়ে পড়ে। এএফসি কাপে মালদ্বীপের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে আবাহনী ভালো করতে পারেনি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা দুবার মালদ্বীপের ক্লাবের কাছে হারতে হয়েছে আকাশি-হলুদদের। মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিশেয়ন ক্লাব ও নিউ রেডিয়েন্টের বিপক্ষে হোম এবং অ্যাওয়ে চারটি ম্যাচেই কোনও পয়েন্ট নেওয়া যায়নি। এক বছর পর আবারও সেই মাজিয়া সামনে এসে উপস্থিত। এবার কী হবে? আবাহনী কি জিততে পারবে?

সোমবার বিকেলে নিজেদের মাঠে আবাহনীর খেলোয়াড়দের অবশ্য ফুরফুরে মেজাজেই পাওয়া গেলো। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস হাতে ক্লিপবোর্ড নিয়ে নানান নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। লেমোস অবশ্য আশাবাদী যে ইতিহাস উল্টে দেওয়া যাবে, ‘মালদ্বীপের ক্লাবের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে আবাহনী জিততে পারেনি। যদিও সেই সময়ে আমি কোচ ছিলাম না। তবে এবার অন্তত তেমন ফল হবে না। এবার আমি আছি। আমরা জয়ের জন্যই খেলবো। জিতেই মাঠ ছাড়বো।’

লেমোসের অনুপ্রেরণা ২০১৯ এএফসি কাপের ফল। জোনাল সেমিফাইনালে পর্যন্ত খেলেছেন জীবন-সাদরা। যেখানে আবাহনী ঢাকায় চারটি ম্যাচ খেলে হারেইনি! লেমোস ধারাটা ধরে রাখতে চান, ‘আমাদের নিজেদের মাঠে আমরা অজেয় আছি। এবারও তা ধরে রাখতে হবে। কারণ আমরা নিজেদের মাঠে গোল খেয়ে যাই তাহলে আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে পরের রাউন্ডে যাওয়া। আমরা গোল করতে পারলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে ভালো একটা অবস্থানে থাকবো।’

মাজিয়ার গোলকিপার ও দুই ডিফেন্ডার বিদেশি। আগামী বুধবারের ম্যাচে এরাই হয়তো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। লেমোস সতর্কই আছেন, ‘মাজিয়া ভালো দল। ওদের দুজন বিদেশি সেন্টার ব্যাক আছে। একজন গোলকিপার বিদেশি। ওরাই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কিন্তু ওরাও ম্যাচে ভুল করতে পারে। সেই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এএফসি কাপ একেবারে আলাদা একটা প্রতিযোগিতা। গতবার আমরা সেমিফাইনালে খেলেছি। এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে জেতার একটা বড় সুযোগ থাকছে আগামীকাল।’

জিততে হলে গোল করতে হবে। লেমোস তাই ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে আছেন, ‘আমাদের বিদেশিরা ভালো করছে। তবে একটা বিষয় হলো আমাদের অবশ্যই গোল করতে হবে। ফুটবলে কখনও বাজে দিন আসে, কখনও ভালো দিন। যদি বেলফোর্ট ও সানডে একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারে তাহলে কে না জানে দিনটা আমাদেরই হবে? ওরা যদি ভালো অবস্থায় থাকে তাহলে ওরা খুব ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।’

এটাই ঠিক যে গোলের জন্য আবাহনীর ফরোয়ার্ডদের ভয়ংকর হতে হবে।