গৌরবময় স্মৃতি: ২০১০ এসএ গেমস জয়

এসএ গেমস ফুটবলে সোনাজয়ী বাংলাদেশের উল্লাসকরোনাভাইরাস মহামারির এই ভয়ঙ্কর সময়ে মাঠে কোনও খেলা নেই। সাবেক ফুটবলাররা ঘরে বসে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যাচ্ছেন। তুলে আনছেন পেছনের সাফল্যগাঁথা। আজ শেষ পর্বে থাকছে ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলের শিরোপা জয়ের কাহিনী। ১০ বছর আগের সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন মামুনুল ইসলাম ও ওয়ালি ফয়সাল-

১৯৯৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে প্রথম সাফ গেমস ফুটবলের (বর্তমানে এসএ গেমস) শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সোনালি পদক নিয়ে দেশে ফেরার ১০ বছর পর ঘরের মাঠে আবারও সাফল্যের আনন্দে মেতেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আমিনুল-নাসিরুলরা দেশকে এনে দিয়েছিলেন প্রতিযোগিতাটির দ্বিতীয় সোনার পদক।

এই পদকের নেপথ্যে ছিলেন সার্বিয়ান কোচ জোরান দর্দেভিচ। বেশ কিছুদিন আগেও এই কোচের ফোন পেতেন বাফুফের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আগ্রহ এখনও আছে তার। এই সার্বিয়ান কোচের অধীনে মাত্র দুই সপ্তাহের অনুশীলনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছিল এসএ গেমসের শিরোপা। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সেই দিনটি এখনও অমলিন মামুনুলদের মনে।

দর্দেভিচ তখন মাত্রই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার অনুপ্রেরণা পেয়ে ঘরের মাঠের গেমসে বাংলাদেশ পায় উড়ন্ত সূচনা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চেনা পরিবেশে গ্রুপ পর্বে নেপালকে ৩-০, ভুটানকে ৪-০ ও মালদ্বীপকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। শেষ চারে তৌহিদুল আলম সবুজের গোলে ভারতকে হারায় লাল-সবুজরা। আর ফাইনালে আফগানিস্তান পাত্তাই পায়নি। বাংলাদেশ ৪-০ গোলের বিশাল জয়ে জেতে এসএ গেমস ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব।

গেমসে ততদিনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফরম্যাট চলে এসেছে। বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের সঙ্গে সিনিয়র কোটায় ছিলেন তিনজন- গোলকিপার আমিনুল হক, ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল ও স্ট্রাইকার এনামুল হক।

এই দলে ছিলেন মিডফিল্ডার মামনুল ইসলাম। কোচ দর্দেভিচের প্রশংসা ঝরল তার কণ্ঠে, ‘সেই সময় আমরা যেন একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, সেই চেষ্টা করেছেন জোরান দর্দেভিচ। তিনি সফলও হয়েছিলেন। নানান সময় আমাদের উদ্দীপ্ত করেছেন। মাঠেও টেকনিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করেছিলেন। শুধু তিনি নন, তার দুই সহকারীও আমাদের উন্নতিতে সাহায্য করেছেন। যে কারণে আমরা শুরু থেকে অলআউট খেলতে থাকি। ফাইনালেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে।’

এরপর মামুনুল যোগ করেন, “মালদ্বীপের বিপক্ষে আগের দিনের সেই ঘটনা এখনও মনে আছে। ড্রেসিং রুমে মাদার তেরেসার একটি ছবি নিয়ে আসেন কোচ। সেই ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘তোমাদেরও তার মতো করে দেশের জন্য তথা সবার জন্য নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ অঝরে কেঁদেও ফেলেছিলেন!”

খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে সেরাটা বের করে নেওয়ার সামর্থ্য ছিল দর্দেভিচের। অনুশীলনে তাই সবাইকে নিজেদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে ভাবতে বলতেন। সেটা জানিয়ে ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল ১০ বছর আগের স্মৃতিতে ডুব দিলেন, ‘কোচ আমাদের মধ্যে জয়ের স্পৃহা তৈরি করেছিলেন। এছাড়া একেক সময় একেকভাবে তিনি আমাদের উজ্জীবিত করতেন। তাই শুরু থেকে আমরা ছিলাম অপ্রতিরোধ্য। আমাদের সবাইকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মতো করে ভাবতে বলেছিলেন। এই যেমন কাউকে বলতেন (গ্যাব্রিয়েল) বাতিস্তুতা কিংবা (হুয়ান সেবাস্তিয়ান) ভেরন। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করার চেষ্টা করতেন। তিনি গেমস শেষে সফলও হয়েছেন।’

দর্দেভিচের অধীনে পাওয়া ওই সাফল্যের পর ১০ বছর পেরিয়ে গেছে, তবু এসএ গেমস কিংবা সাফ ফুটবলের সাফল্যখরা কাটেনি বাংলাদেশের।