ঢাকার মাঠে আগেও অনেক বিশ্বকাপ তারকা খেলে গেছেন। নাসের হেজাজি থেকে শুরু করে সামির শাকির-এমেকা। সর্বশেষ ছিলেন কলিনদ্রেস। শুরু থেকে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথম মৌসুমে লিগ ও স্বাধীনতা দিবসের ট্রফি জেতে বসুন্ধরা। এবার মৌসুম পরিত্যক্ত হওয়ার আগে প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপও নিজেদের ঘরে তুলেছে। এছাড়া এএফসি কাপেও খেলছে দলটি।
সব প্রতিযোগিতাতেই আলো ছড়ানো কলিনদ্রেস বসুন্ধরার জার্সিতে দুই মৌসুমে ৪৮ ম্যাচে করেছেন ২৬ গোল। সেই তিনি বিদায়বেলায় সুখস্মৃতি রোমন্থন করলেন।
ঢাকায় খেলতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন ৩৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতিতে কাজ করেছি। শুধু আমি নই, সবাই মিলে। বসুন্ধরা ভালো ক্লাব। আমি ভাগ্যবান যে এখানে খেলতে পেরেছি। এই ক্লাবের হয়ে আমার বেশ ভালো সময় কেটেছে। এখানকার মানুষ খুব ভালো। এই দলটির হয়ে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক সুন্দর স্মৃতি রয়েছে এখানে। বাংলাদেশের কথা সবসময় মনে থাকবে।’
বসুন্ধরা অধ্যায় শেষে ভবিষ্যৎ ঠিকানা কোথায় করছেন, সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি কলিনদ্রেস, ‘এশিয়ান একাধিক ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এছাড়া আমার দেশ কোস্টারিকা থেকেও প্রস্তাব আছে। পরবর্তী ঠিকানা কোথায়, তা আমি এখনই বলতে চাই না।’
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রশংসাও ঝরল তার কণ্ঠে, ‘এখানে যারা খেলছে তারা ভালো খেলোয়াড়। এই যেমন জনি, মতিন, ইমন ও তপুর খেলা ভালো লাগে। তবে সামগ্রিকভাবে সবার খেলার মান বাড়াতে হবে। এছাড়া এখানকার অবকাঠামো ভালো হতে হবে। বসুন্ধরায় কমপ্লেক্স হচ্ছে। সেটা হলে ফুটবল আরও উপকৃত হবে।’
বাংলাদেশের ফুটবলে নিয়ে তার প্রত্যাশা, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের একসময় এশিয়ান স্টান্ডার্ডে পৌঁছানো সম্ভব। এজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। মানসিকতা বদলাতে হবে। জোর দিতে হবে বেসিকে।’
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ট্রেনে যাওয়ার স্মৃতিও তার মানসপটে বেশ উজ্জ্বল। ভবিষ্যতে আমন্ত্রণ পেলে আবারও বসুন্ধরা কিংসে খেলার ইচ্ছার কথা শুনিয়েছেন কলিনদ্রেস।