দুই বছরের চুক্তিতে বার্সেলোনার কোচ হচ্ছেন কোম্যান!

রোনাল্ড কোম্যানব্যর্থতার তলানিতে পৌঁছানো বার্সেলোনাকে কে টেনে তুলবেন- দুই দিন ধরে এই আলোচনা স্পেনের সংবাদমাধ্যমে। এখনও কিকে সেতিয়েনকে বরখাস্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে স্প্যানিশ কোচ যে আর কাতালানদের দায়িত্বে থাকছেন না, সেটা বলাই যায়। কেননা বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ নিজেই সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, বরখাস্ত হচ্ছেন সেতিয়েন। তার জায়গায় অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত রোনাল্ড কোম্যানই পাচ্ছেন ন্যু ক্যাম্পের দায়িত্ব। কাতালান ক্রীড়া দৈনিকগুলোর খবর তেমনই।

চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত বার্সেলোনাকে স্বরূপে ফেরাতে কোম্যানকেই নাকি যোগ্য মনে করছে বার্সেলোনা। আজ (সোমবার) বোর্ড সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে তার আগেই কাতালানভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, বার্সেলোনা-কোম্যান সমঝোতায় পৌঁছেছে, শিগগিরই আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

সংবাদমাধ্যমটি ছেপেছে, কোম্যানের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করছে বার্সেলোনা। প্রথম বছরটি বর্তমান বোর্ডের অধীনে, আর দ্বিতীয় বছরের চুক্তিটি নির্ভর করবে নতুন সভাপতির সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী বছর হবে বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচন।    

৫৭ বছর বয়সী কোম্যান এখন তার দেশ নেদারল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে। ২০১৮ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে না পারা ডাচ ফুটবল দলকে ‘নতুন জীবন’ দিয়েছেন খেলোয়াড় হিসেবে বার্সেলোনায় ছয় মৌসুম কাটানো সাবেক এই ডিফেন্ডার। তরুণ ডাচ দলকে তুলেছিলেন ২০১৯ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে।

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে কোম্যানের চুক্তির মেয়াদ ২০২২ বিশ্বকাপ। কিন্তু তার আগেই অরেঞ্জদের ছেড়ে আসার একটি শর্ত আছে তার চুক্তিতে। শর্ত অনুযায়ী, চাইলেই ২০২০ সালের ইউরোর পর দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন তিনি। যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ইউরো পিছিয়ে গেছে, তাই বার্সেলোনার কোচ হতে কোনও সমস্যা নেই তার।

গত জানুয়ারিতে এর্নেস্তো ভালভার্দে বরখাস্ত হওয়ার সময়ও কোম্যানের নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সেসময় সাবেক এই ডাচ তারকা জানিয়েছিলেন, তার নজর নেদারল্যান্ডেসের ২০২০ ইউরোর দিকে। তবে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই একবছর পিছিয়ে যাওয়ায় বার্সেলোনায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কোম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বার্সেলোনার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে তার গভীর পরিচিত। ড্রেসিং রুম কিংবা ফুটবল দর্শনে ‘ঘরের মানুষ’ই তিনি। যার হাত ধরে বার্সেলোনার ফুটবল নতুন প্রাণ পেয়েছিল, সেই ইয়োহান ক্রুইফের ‘ড্রিম টিমের’ অন্যতম সদস্য এই কোম্যান। কাতালান জার্সিতে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত খেলে জিতেছেন চারটি লা লিগা ও একটি করে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা দেল রে’র শিরোপা।

মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কার খবর, রবিবার বার্সেলোনার বিমানবন্দরে দেখা গেছে কোম্যানকে। করোনাকালে তার বার্সেলোনা উড়ে আসায় দুয়ে দুয়ে চার মেলাচ্ছে তারা। আর মুন্দো দেপোর্তিভো তো বলছে, চুক্তির খুব কাছে কোম্যান, শিগগিরই আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।