২০১৭ সালের গ্রীষ্মে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিশ্ব রেকর্ডে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। যদিও চোট ও মাঠের বাইরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রথম দুই মৌসুমে বড্ড অচেনা লেগেছে সাবেক সান্তোস তারকাকে। তাছাড়া বার্সেলোনায় ফেরার ইচ্ছাটাও সম্ভবত প্যারিসের ক্লাবটিতে ভালো খেলতে দেয়নি। তবে গত গ্রীষ্মের দলবদলে তার সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার কর্তাব্যক্তিরা তাকে ফেরানোর যে ‘নাটক’ করেছিলেন, তাতে বুঝে যান পিএসজিতেই থাকতে হবে। এরপর থেকে নেইমারকে পাওয়া গেছে তার চেনা রূপে।
২০১৯ সালে ফরাসি কাপের ফাইনালে দর্শকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর পার্ক ডু প্রিন্সেসে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন নেইমার। যার সুফল এবার পেয়েছে পিএসজি। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ২৭ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল, সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১২ গোল। যাতে ঘরোয়া ত্রিমুকুট জেতার সঙ্গে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠে পিএসজি।
২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর দুই লেগেই করেন গোল। আতালান্তা ও আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে পরের রাউন্ডের খেলাতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে নষ্ট করেছেন সহজ সুযোগ। তার এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আনহেল ডি মারিয়ার ভুলে লিসবনের ফাইনাল ১-০ গোলে জিতে শিরোপা উদযাপন করে বায়ার্ন মিউনিখ।
শিরোপার এত কাছে গিয়েও খালি হাতে ফেরায় নেইমারের দুচোখ গড়িয়ে এসেছিল জল। তবে হতাশায় ডুবে যায়নি, বরং এবারের ফাইনালের হার আরও বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাকে। তাই অন্য কোথাও নয়, আগামী মৌসুমে পিএসজিতেই থাকতে চান তিনি। একই সঙ্গে আবারও উঠতে চান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে।
পিএসজির অফিসিয়াল ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, ‘আগামী মৌসুমে আমি পিএসজিতেই থাকবো। এখানে থেকেই আমার ইচ্ছা আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ওঠার, আর এইবার জিততে চাই। আমার ইচ্ছা, এই ক্লাবের ইতিহাসে নিজের নাম লিখতে সাধ্যের সবটা করার।’