‘ইউরোপের মতো বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে একাডেমি থাকা উচিত’

বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেমি ডেবাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে অনেকদিন ধরেই বিদেশি খেলোয়াড়ের দাপট। মৌসুম শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড় কোটা কমানো-বাড়ানো নিয়ে দেনদরবার চলে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি, কথা উঠেছে যথারীতি। তবে করোনাকালীন এই কঠিন সময়ে অনেক ক্লাবই বিদেশি খেলোয়াড়মুক্ত ফুটবল মৌসুম চাইছে। এ নিয়ে ক্লাবগুলো কিছুটা দ্বিধাবিভক্ত। মাঠের খেলায় বিদেশি খেলোয়াড় থাকা না-থাকা নিয়ে অনেকেই নানান যুক্তি দিচ্ছেন। বাংলা ট্রিবিউনের ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ (বুধবার) শেষ পর্বে থাকছে জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডের মূল্যায়ন-

নাবীব নেওয়াজ জীবনের যেমন আক্ষেপ আছে, তেমনি আছে জাতীয় দলের কোচ জেমি ডেরও। জীবনের আক্ষেপ, জাতীয় দলে মূল স্ট্রাইকার হলেও ক্লাবে থাকতে হয় মূল স্ট্রাইকারের পেছনে!  আর ডে? অপেক্ষাকৃত তরুণ এই ইংলিশ ভদ্রলোক দায়িত্ব নিয়েই দেখেন দলে কোনও নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার নেই! লাল-সবুজের একাদশ সাজাতে গেলে দেখা যায় ফরোয়ার্ড লাইনের বেশিরভাগেরই ঠিকমতো ক্লাব ফুটবলে জায়গা হয় না। আর যারা খেলার সুযোগ পান, তারা আবার মূল পজিশনে খেলতে পারেন না। সেই জায়গা জুড়ে আছেন বিদেশি স্ট্রাইকাররা। এ নিয়ে ডের আক্ষেপ-আর্তি কম নয়।

তার অধীনে বাংলাদেশ দল দুই বছরে ১৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে ৮টিতে। হেরেছে ৯টি, আর ড্র দুটিতে। দল গোল পেয়েছে ১৭টি, আর খেয়েছে ২০টি। বাংলাদেশের গোলের সুযোগ কিন্তু কম আসেনি। দুটো ম্যাচকে সামনে আনা যায়। একটি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে কক্সবাজারে (২০১৮) ফিলিস্তিন ম্যাচ, অন্যটি ঢাকায় (২০১৯) বুরুন্ডির বিপক্ষে। প্রতিপক্ষ গোল করতে পেরেছে, আর বাংলাদেশ সুযোগ হেলায় হারিয়েছে!

তবে এটা যে সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যা তা নয়। ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, আলফাজ আহমেদ কিংবা জাহিদ হাসান এমিলির পর দেশে যোগ্য স্ট্রাইকার সংকট চলছেই। তাই ডে’কে প্রায়ই অতিমাত্রায় বিদেশি খেলোয়াড়ের বিপক্ষে সোচ্চার হতে দেখা যায়।

এই ইংলিশ কোচ সবসময় বলেন, স্থানীয়রা যদি ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের জায়গায় খেলতে না পারে তাহলে জাতীয় দলে মেলে ধরবে কী করে? এভাবে হলে সবসময় ইতিবাচক ফল আশা করাও কঠিন।

এবার যখন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে ক্লাবগুলো আবারও পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছে, তখন ডেও মুখ খুলেছেন, ‘আমি মনে করি এই মুহূর্তে সবারই কঠিন সময় যাচ্ছে। অনেক ক্লাবগুলো অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় আছে। আবার কিছু স্বাবলম্বী ক্লাবও আছে। তাদের বিদেশি খেলোয়াড় আনার স্বক্ষমতা আছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর।’

অন্যদের মতো ডেও বিদেশি খেলোয়াড় কমানোর পক্ষে, ‘আমি জাতীয় দলের দিক দিয়ে বলতে চাই। অবশ্যই বিদেশি খেলোয়াড় রাখা উচিত। বিদেশিদের সঙ্গে খেলে স্থানীয়রা অনেক কিছু শেখার অভ্যাস করতে পারবে। কিন্তু সেটা দুই কিংবা সর্বোচ্চ তিনজনের বেশি নয়। তাহলে স্থানীয় অনেক খেলোয়াড়ের খেলার সুযোগ হবে। উঠতি খেলোয়াড়রাও নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে। এতে করে সবার জন্য ভালো হবে। তবে ক্লাব কী চায় সেটার দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।’

বাংলাদেশে ক্লাবগুলো সেভাবে সুসংগঠিত নয়। একটি বা দুটি ক্লাব মাত্রই বয়সভিত্তিক দল নিয়ে পরিচর্যা শুরু করছে। ডে জোর দিয়েছেন একাডেমিতে, ‘ক্লাবগুলোকে সুসংগঠিত হতে হবে। তাদের একাডেমি সিস্টেমের দিকে যেতে হবে। তাহলে নতুনভাবে শুরু করা যাবে। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে ৬ থেকে ৮ বছর বয়সীদের। তাদের ভালো প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।’

ইউরোপসহ এশিয়ার অনেক দেশেই বিদেশি ফুটবলারদের আধিক্য। ফুটবলের আতুরঘর ইংল্যান্ডে বিদেশি ফুটবলারদের রাম-রাজত্ব! তারপরও দেশটি ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আছে। কীভাবে, ডের ব্যাখ্যা, ‘আমাদের এখানে (ইংল্যান্ডে) সব ক্লাবেরই একাডেমি আছে। এখানে সঠিকভাবে খেলোয়াড়দের পরিচর্যা করা হয়। এছাড়া পেশাদার লিগের ৬টি ধাপ রয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ডের সব খেলোয়াড় খেলতে পারে। সঠিকভাবে তারা বেড়ে উঠতে পারে। বিদেশি ফুটবলারদের আধিক্য থাকলেও আমাদের খেলোয়াড়রা সেভাবেই সমান সুযোগ পেয়ে থাকে। তাই ইউরোপের মতো বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে একাডেমি থাকা উচিত।’

ডের এই কথা অনেকেই ঘুরে-ফিরে বলে আসছেন- ক্লাব পুনর্গঠন করে একাডেমি কিংবা যুব দল গঠন করতে হবে। কিন্তু প্রতিবারই সেই কথা বিফলে যায়!