‘এএফসি কাপের প্লে-অফ পর্ব বেশ কঠিন হবে’

মারিও লেমসের কপালে চিন্তার ভাঁজটা যেন একটু বেশি-ই। এক মৌসুম আগে আবাহনী লিমিটেডকে নিয়ে গিয়েছিলেন এএফসি কাপের জোনাল সেমিফাইনালে। সেই দলটি কিনা গতবার গ্রুপ পর্বেই উঠতে পারেনি! এবার তো গ্রুপ পর্বে উঠতে হলে আরও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্লে-অফ থেকে জিতে আসতে হবে দুটি ম্যাচ। তাই আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ লেমসের সামনে আগের চেয়ে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশিই।

৩৪ বছর বয়সী পর্তুগিজ তাতো মানছেনই। তবে সেই চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন লেমস। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এবার আমাদের প্লে-অফ পর্বে দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। যদি প্রথম ম্যাচ জিতি, তাহলে পরের ম্যাচে খেলার সুযোগ আসবে। সেই ম্যাচ জিততে পারলেই গ্রুপ পর্বে জায়গা মিলবে। তাই বলবো আগের চেয়ে বেশ কঠিন পরীক্ষা আমাদের জন্য। তবে আমি এই কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।’

আবাহনী লিমিটেডকে এএফসি কাপের প্লে-অফ পর্বে প্রথম ম্যাচ খেলতে হবে আগামী ১৪ এপ্রিল। প্রতিপক্ষ ভুটানের থিম্পু সিটি ও মালদ্বীপের ঈগলস ম্যাচের বিজয়ী দল। একই দিন আরও একটি ম্যাচ রয়েছে। সেদিন নেপাল আর্মি বনাম শ্রীলঙ্কান পুলিশের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে ভারতের বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বে ওঠার লড়াইয়ে ওই দুইপর্বের বিজয়ী দুই দল খেলবে ২১ এপ্রিল।

সেখানে ‘ডি’ গ্রুপে আগে থেকে অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস, ভারতের মোহনবাগান ও মালদ্বীপের মাঝিয়া স্পোর্টিস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব। গ্রুপ পর্ব হবে ১৪ থেকে ২০ মে।

তবে সেই ম্যাচের আগে চোট ভাবনাও ভাবাচ্ছে আবাহনীকে। বর্তমানে চোট জর্জর দল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলছে তারা। তাই নিয়মিত একাদশ গঠন করতেই কিছুটা গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। তবে লেমস আশাবাদী যে, এপ্রিলের আগে পুরো দলকে ফিট অবস্থায় পাবেন, ‘আমাদের হাতে এখনও অনেক সময় আছে। এরই মধ্যে লিগের অনেক ম্যাচ হয়ে যাবে। খেলোয়াড়রা আরও ফিট হয়ে যাবে। তখন এএফসি কাপ খেলতে সুবিধাই হবে।’

আবাহনীর প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়েরই এএফসি কাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আর বিদেশিদের অভিজ্ঞতা কম নয়। বিশেষ করে আফগানিস্তানের মাসিহ সাইগানি তো ভালো করেছিলেন। গোলও পেয়েছিলেন। হাইতির কেরভেন্স বেলফোর্টের পারফরম্যান্সও আশাজাগানিয়া ছিল। যদিও দুই ব্রাজিলিয়ান ফ্রান্সিসকো তোরেস ও রাফায়েল অগাস্তো দলের হয়ে প্রথম খেলবেন।

তাই লেমস বলেছেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে বিদেশিরা যদি ভালো করতে পারে, তাহলে আমরা গ্রুপ পর্বে যেতে পারবো। তবে আমাদের গ্রুপ পর্বে ওঠা সহজ হবে না। ভিন্ন দেশের ভিন্ন দুই ক্লাব থাকবে। আর এবার তো হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিক খেলা হবে না। একটি করে ম্যাচ থাকবে। তাই চাপটা বেশি থাকছে।’