প্রথম লেগে অ্যাওয়ে এক গোলের সুবাদে দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলের জয় পেলেই হতো জুভেন্টাসের। তাতো হলোই না। উল্টো শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের জন্ম দিয়ে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ ৩-২ গোলে হেরে পোর্তোই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো চ্যাম্পিয়নস লিগের!
পোর্তোর মাঠে প্রথম লেগে ২-১ গোলে হেরেছিল জুভেন্টাস। দুই লেগ মিলে স্কোর ৪-৪ হলেও অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে ছিল পোর্তো। তাতেই ম্যাচটা জিতেও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিরলোর দল।
অথচ নিজেদের মাঠে খেলা হলেও পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি জুভেন্টাস। বরং ৫৪ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয়েও পোর্তো ম্যাচটা করে রাখে চিত্তাকর্ষক! ম্যাচের শুরুর গোলটাও করে তারা ১৯ মিনিটেই। বক্সে ডিফেন্ডার ডেমিরাল ফাউল করেছিলেন তারেমিকে। রেফারি পেনাল্টির বাশি বাঁজালে স্পট কিক থেকে গোল করেন সার্জিও অলিভেইরা।
চাপে পরে যাওয়া জুভেন্টাস ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বিরতির পর। ম্যাচের গতিপ্রকৃতিও পাল্টে যায় দ্রুত। ৪৯ মিনিটে সমতা ফেরান চেইসা। এর পর জুভেন্টাসকেই মনে হচ্ছিলো বেশি অগ্রগামী। ৬৩ মিনিটে কুয়াদরাদোর ক্রস থেকে চিয়েসা আবার গোল করলে স্কোর দাঁড়ায় ২-১। ৫৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পোর্তোর তারেমি।
৭৮ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু কুয়াদরাদোর ক্রস থেকে রোনালদো হেড করে বল পাঠিয়ে দেন লক্ষ্যের বাইরে। স্টপেজ টাইমে গোল করার উল্লাসে মেতেছিলেন মোরাতাও। কিন্তু তার গোল পড়ে যায় অফসাইডের ফাঁদে।
দুই লেগ মিলে ম্যাচটি ৩-৩ সমতায় থাকায় ভাগ্য নির্ধারণে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। প্রথম ১৫ মিনিট ছিল গোলশূন্য। তবে শেষ ১৫ মিনিটেই হয়েছে দুই গোল। ১১৫ মিনিটে অলিভিয়েরার দারুণ এক ফ্রি কিক খুঁজে নেয় জাল। এই গোলটাই ভাগ্য বদলে দেয় ম্যাচের। ১১৭ মিনিটে র্যাবিওট গোল করে জুভেন্টাসকে ৩-২ গোলের জয় এনে দিলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে পিছিয়ে পড়ে তারা। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলো জুভেন্টাস।
অপর ম্যাচে সেভিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেও শেষ আটের টিকিট কেটেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। দুই লেগ মিলে জার্মান ক্লাবটি এগিয়ে ছিল ৫-৪ ব্যবধানে।