বেলজিয়াম পারেনি, ডেনমার্ক-ইতালি পারবে তো?

প্রতিটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেই আবির্ভাব হয়ে থাকে সোনালী প্রজন্মের। এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকেন সমর্থকরা। অনেক সময় সেই স্বপ্ন মাঝ পথে এসে বিলীনও হয়! এমনই এক দল বেলজিয়াম। সোনালী প্রজন্মের ধারক-বাহকরা ইউরোর শেষ আটে পৌঁছালেও তাদের অগ্রযাত্রা থেমেছে এখানেই। বেলজিয়াম না পারলেও রূপকথা লিখে ফেলার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে সোনালী প্রজন্মদের আরেক প্রতিনিধি ডেনমার্ক। ট্রফি থেকে মাত্র দুই ম্যাচ দূরে তারা। ফেভারিট ইতালি তো নিজেদের খেলার ধরণই পাল্টে দিয়েছে। রক্ষণাত্মক ফুটবলের বদলে তাদের মন্ত্র এখন আগ্রাসী ফুটবল। শিরোপার আরেক দাবিদার স্পেন অবশ্য পাস করে যাচ্ছে একের পর এক পরীক্ষা। তাই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই এখন চার দলের মধ্যে সীমবদ্ধ।

অথচ এদের মাঝেও সম্ভাবনা ছিল র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল বেলজিয়ামের। রোমেলু লুকাকু-এডেন হ্যাজার্ডদের নিয়ে দলটি যেতে চেয়েছিল বহুদূর। গ্রুপ সেরা হয়ে সেই ইঙ্গিতও তারা দিয়ে রেখেছিল। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে কক্ষপথেই ছিল তারা। কিন্তু সোনালী প্রজন্ম ভরা দলটির মিশন শেষ হয়ে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির কাছে হেরে।

এমন দুর্ভাগ্য তাদের বরণ করতে হয়েছে আগেও। সোনালী প্রজন্মের তকমা নিয়েই ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৬ সালে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে তো সম্ভাবনা জাগিয়েও দলটি ছিটকে যায় সেমি থেকে। চমক, রূপকথার ভিড়ে ব্যর্থতার গল্প লিখতে হয়েছে অন্য দুই ফেভারিট ফ্রান্স ও জার্মানিকে। অথচ এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকরা স্বপ্নের জাল বুনছিলেন। শেষ ষোলো থেকেই বেনজেমা-গ্রিজমানদের নিয়ে গড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এভাবে বিদায় নেবে, কে ভেবেছিল? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ উপহার দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি দিদিয়ের দেশমের দলটির।

অপর দিকে পাওয়ারহাউস জার্মানির জন্য বড্ড বেদনাদায়ক ছিল এই ইউরো। ইওয়াখিম ল্যোভের ছিল এটাই শেষ প্রতিযোগিতা। ট্রফি জিততে শেষটা রাঙাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে তার বিদায়টা হলো যন্ত্রণায়। এর পরেও কঠিন সব ম্যাচ, রোমাঞ্চ পার হয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে আছে ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ডেনমার্ক।

এদের মাঝে ইতালি ভিন্ন রূপে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছে। ডিফেন্সিভ ঘরানার ফুটবল যাদের ট্রেডমার্ক, তারাই কিনা আক্রমণাত্মক খেলে একের পর এক ম্যাচ জিতে যাচ্ছে! রবার্তো মানচিনির দল নতুন ফর্মে এসে বরং নিজেদের নতুন করেই চেনাচ্ছে। তার অধীনে টানা ৩২ ম্যাচে অজেয় ইতালি! লোকাতেল্লি-ভেরাত্তিরা অলআউট ফুটবল খেলে ভিন্ন এক বার্তা-ই দিচ্ছেন সবাইকে। অথচ এই দলটিই ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছিল! সেই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আজ্জ্বুরিরা পুরো খোলনলচেই পাল্টে ফেলেছে। মানিচিনির হাত ধরে সফল হওয়ার দিকে এগুচ্ছে ইতালি।

আরেক সোনালী প্রজন্ম বলতে হবে ডেনমার্ককে। ১৯৯২র চ্যাম্পিয়নরা শেষ চারে উঠেছে ২৯ বছর পর। অথচ তাদের বড় তারকা ক্রিস্তিয়ান এরিকসেনই ছিটকে গেছেন টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে। হার্ট অ্যাটাকে মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন। এরপর ডেনিশরা এতোদূর আসতে পারবে, তা কল্পনাও করেনি কেউ। কিন্তু এরিকসেনের জন্য রূপকথার জন্ম দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ডেনিশরা। পাশাপাশি চোখ রাঙানি দিচ্ছে অন্যদেরও। লুই এনরিকে তো রিয়াল মাদ্রিদের কোনও খেলোয়াড় না নিয়েই আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন কতদূর যেতে পারবে, এ নিয়ে অনেকের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজও পড়েছিল। কিন্তু মোরেনো-তোরেসরা সব শঙ্কা ঝেড়ে ফেলে ট্রফি মঞ্চ থেকে আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরত্বে রয়েছেন। ভাবা যায়? পাসিং ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা দলটি এরই মধ্যে সমর্থকদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

ঠিক তেমনি বড় কিছু করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে ইংল্যান্ডেরও। ২৫ বছর পর শেষ চারে ওঠায় তাদের ঘিরে আবারও ফুটবলের ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ইংলিশরা। গত বিশ্বকাপে একইভাবে সম্ভাবনা তৈরি করেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। তাই রহিম স্টার্লিং-হ্যারি কেইনের দলটিকে নিয়ে এবার আর হতাশার গল্প লিখতে চান না কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।

আগামীকাল মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হতে যাওয়া ইউরোর শেষ চারে তাই ধুন্ধুমার লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। চার দলের মধ্যে তিন দলেরই আগে ইউরোতে ট্রফি জয়ের ইতিহাস আছে। নেই শুধু ইংলিশদের। এবারের আসরের ট্রফিটা নতুন নাকি পুরনোদের হাতে উঠবে, সেটি পরিষ্কার হতে শুরু করবে কাল।