১৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে ঘৃণ্যতম একটি দিন। ১৯৭৫ সালে এই দিনের প্রথম প্রহরে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এমন হৃদয়বিদারক দিনের আগের দিন আজ (শনিবার) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে স্মরণ করলেন, ‘আজকে আমি এখানে বসে কথা বলতে পারছি, স্বাধীন বাঙালি হিসেবে। পুরোটাই বঙ্গবন্ধুর কারণে।’
টানা চতুর্থবারের মতো বাফুফের সভাপতি পদে কাজ করে যাচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন। ১৫ আগস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাফুফে ভবনে তিনি বলেছেন, ‘১৫ আগস্ট। বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে কালো দিন। দুঃখের বিষয় এটা আমাদের দেখতে হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল। ১৫ আগস্ট ঘাতকদের বুলেট তাকেও ছাড়েনি। শহীদ শেখ কামাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘ওর (শেখ কামাল) ইচ্ছা ছিল, বাংলাদেশকে ক্রীড়া বিশ্বে সুপার পজিশনে নিয়ে যাওয়া। সেটার উদাহরণ হলো আবাহনীর প্রতিষ্ঠা। এটা শুধু ক্লাব নয়। দেশের একটি ইনস্টিটিউশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শেখ কামালের হাত ধরে আবাহনী এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব। দেশে-বিদেশে অনেক সাফল্য পেয়ে আসছে। বাফুফে সভাপতির বক্তব্য, ‘এমন একটা লোক নেই যে আবাহনীর নাম জানে না। এটাই হলো শেখ কামালের ড্রিম চাইল্ড। ও সময় বেশি পায়নি। যতোদিন পেয়েছে, তাতে করে আজ ৪০-৪৫ বছর পর এই ক্লাব নিয়ে গর্ব অনুভব করি।’
১৯৭৫ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে খেলার আগে বঙ্গবন্ধু ও শেখ কামালের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল সালাউদ্দিনের। সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন বাংলাদেশের ফুটবল কিংবদন্তি, “মারদেকা কাপে খেলার আগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। বিমানবন্দরে শেখ কামালের সঙ্গে পরের দিন শেষ কথা। কামালেরও যাওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের কারণে যাওয়া হয়নি। যাওয়ার আগে ও আমাকে বললো, ‘তোরা যা। আমি এরপরের প্রতিযোগিতায় যাবো। আমাদের ফুটবল দল নিয়ে এশিয়াতে চ্যালেঞ্জ করবো।’ এরপর কী হয়েছে আপনারা তো জানেনই।”
১৫ আগস্ট বিকালে মারদেকা কাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। তখনই এক শিখ ভদ্রলোক এসে হৃদয়বিদারক খবরটি জানান। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘সেই সময় এক শিখ ভদ্রলোক আসলেন। মালয়েশিয়াতে তার দোকান থেকে আগে বুট কিনেছিলাম। তার মুখ থেকেই প্রথম হৃদয়বিদারক ঘটনা শুনি। দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছিলাম।’
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর দেশের ফুটবল তেমন এগোতে পারেনি বলে সালাউদ্দিনের অভিমত, ‘আমরা খুব একটা এগোতো পারিনি। পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। ২১১টি দেশের একটা খেলা এটা। আমেরিকা ও ইতালি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি (২০১৮ সালে)। আসলে এই জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সরকার ও বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তা লাগবে। যেই কাতারের বিপক্ষে আমি গোল দিয়েছি, সেই কাতার এখন অন্য জায়গায় চলে গেছে। তাই সরকারের সাহায্য পুরোপুরি লাগবে।’