কোচের লড়াই: যেখানে আবাহনীর চেয়ে পিছিয়ে বসুন্ধরা

এএফসি কাপে দারুণ পারফরম্যান্স আবাহনী লিমিটেডের। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে জোনাল সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে যেমন ভারতের শক্তিশালী চেন্নাইয়ান এফসিকে হারায়। আবার নকআউটের প্রথম পর্বে ঢাকায় উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে হারানোর সুখও পায়। সেই ধারায় যেতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। প্রথমবার অংশ নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশে আসার পর বড় কোনও শিরোপা না পেলেও আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস আন্তর্জাতিক আঙিনায় সাফল্য পেয়ে এগিয়ে আছেন। বিপরীতে ঘরোয়া ফুটবলে একচেটিয়া সাফল্য পেলেও এএফসি কাপ থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনকে।

দুই বছর আগে এএফসি কাপে আবাহনী একটি দল হিসেবে খেলেছে। স্থানীয়দের পাশপাশি বিদেশিরাও চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। মাসিহ সাইঘানি-বেলফোর্টরা গোল পেয়েছেন। আবার নাবীব নেওয়াজ জীবন-সোহেল রানা-মামুনুল ইসলামরা নিজেদের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন। পুরো দলকে একসূতোয় গাঁথতে কম চেষ্টা করেনি তরুণ পর্তুগিজ কোচ লেমস। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। ভরসা রেখেছেন নিজের দলের শক্তির ওপর।

সেই জায়গায় বসুন্ধরায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা খেলেছেন। বিদেশিরাও বেশ উঁচুমানের। কিন্তু তাদের একদল হিসেবে খেলাতে পারেননি স্প্যানিশ কোচ ব্রুজন। রবিনিয়ো-ফের্নান্দেসরা ভালো করলেও বিপলু-সুফিলরা ঠিকমতো তাল মেলাতে পারেননি।

ব্রুজন অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে আছেন। কিন্তু এএফসি কাপে সবার মধ্যে সমন্বয়টা সেভাবে দেখা যায়নি।। খেলোয়াড়দের কারও কারও পজিশন বদলে দিয়ে সেভাবে সফলও হতে পারেননি। এএফসি কাপের ম্যাচ টেম্পারমেন্ট কেমন হবে, তা বুঝতে পারেননি অনেকেই।

ঘরোয়া ফুটবলে আক্রমণাত্মক খেললেও মালদ্বীপে দল ছিল খানিকটা খোলসবন্দি। প্রতিযোগিতায় কোনও দেশি খেলোয়াড়ের কাছ থেকে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট আসেনি।

অথচ লেমস সেই জায়গায় ছিলেন দুর্দান্ত। বিদেশিদের সঙ্গে দেশিদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে পেরেছিলেন। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) শক্তিধর দল চেন্নাইয়ান এফসিকে হারিয়েছিলেন। অন্যদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে তার দল। পুরো দলকে একই তাল-লয়ে খেলাতে পারাটাই লেমসের বড় সাফল্য।

লেমস সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলে ভারত ও উত্তর কোরিয়ার দলকে হারিয়েছিলাম। আমি যা চাইছিলাম সেই সময় খেলোয়াড়রা মাঠে তা করে দেখাতে পেরেছে। বলতে পারেন সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলেছে। সবার মধ্যে সমন্বয়টাও ছিল দেখার মতো। তাই সাফল্য এসেছে।’

অথচ সেরা দল নিয়ে এবার বসুন্ধরা কিংসকে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। শেষ ম্যাচে মোহনবাগানের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ড্র করে নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। ১০ জন নিয়ে ১ পয়েন্ট পেয়ে থাকতে হয়েছে। যদিও ব্রুজন আগেই বলেছেন, ‘ছেলেরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। এই ম্যাচটার জন্য খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমরা। ম্যাচগুলো আমরা যেভাবে খেলেছি, আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। লক্ষ্য ছিল এগিয়ে যাওয়ার। গ্রুপে আমরা দ্বিতীয় হলাম, এটাও ক্লাবের জন্য ভালো ব্যাপার।’

আবাহনীর চেয়ে বেশি সুবিধাদি পেয়ে এএফসি কাপে ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বসুন্ধরা পারেনি নকআউট পর্বে যেতে। কোচের ট্যাকটিস অনুযায়ী দলও সেভাবে মুভ করতে পারেনি। তাই এএফসি কাপের কৌশলগত  ও সাফল্যের বিচারে মাপলে বসুন্ধরার ব্রুজন থেকে এগিয়ে আবাহনীর লেমস!