যে প্রতিযোগিতায় শুধুই ভারতের আধিপত্য

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু ১৯৯৩ সালে। এরপর এখন পর্যন্ত ১২টি আসর মাঠে গড়িয়েছে। কাল মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতাটির ১৩তম আসর। আগের ইতিহাস বিবেচনায় নিলে এবারও ফেভারিট মানা হচ্ছে ভারতকে।

অবশ্য এমনটা মনে করার কারণ এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন সুনীল ছেত্রীরা। রানার্সআপও অন্যদের চেয়ে বেশি, চারবার। তাই স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টে আধিপত্যটা বেশি ভারতের। সাফল্যের বিচারে এরপরই রয়েছে মালদ্বীপ। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন দ্বীপদেশটি। বর্তমান মুকুটও তাদের মাথায়। রানার্সআপ হয়েছে তিনবার। আর বাংলাদেশ ২০০৩ সালে একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, নিজেদের মাঠে। পরেরবার ২০০৫ সালে করাচিতে হয় রানার্সআপ। 

বাংলাদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একবার করে ট্রফি ঘরে তুলতে পেরেছে। অন্যান্য প্রতিযোগীদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের কেউই ফাইনালে খেলতে পারেনি। এবার অবশ্য ফিফার সাসপেনশনের কারণে পাকিস্তান নেই। আর করোনাভাইরাসের কারণে ভুটান খেলছে না। আফগানিস্তান আগেই এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে গেছে। তাই ট্রফির দিকে তাকিয়ে আছে ৫টি দেশ।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভারতের র‌্যাংকিং অনেক ওপরে, ১০৭। এরপর স্বাগতিক মালদ্বীপ ১৫৮, নেপাল ১৬৮, বাংলাদেশ ১৮৯ ও শ্রীলঙ্কা ২০৫তম স্থানে।

এবার সব দেশই পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মালেতে এসেছে। মাঝে ভারত ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মালেতে অবশ্য ইগর স্টিমাচের অধীনে সুনীলদের নিয়েই লড়াই করবে তারা। স্বাগতিক মালদ্বীপের আছে আলী আশফাকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। যিনি একাই ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দিতে পারেন। নেপালের দলও কম শক্তিশালী নয়। শক্তিশালী দলগুলোর কাছে হারলেও গোল দিতে জানে হিমালয়ের দেশটি। আর শ্রীলঙ্কা চাইছে নিজেদের র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি করতে। এর জন্য প্রবাসী ফুটবলার যোগ করে কিছু একটা করার চেষ্টা আছে তাদের মধ্যে। আর বাংলাদেশ টানা চারটি সাফের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর এবার মালেতে স্বপ্ন দেখছে ট্রফির। দলের সবাই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বেশিরভাগেরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।

এতদিন জেমি ডের অধীনে রক্ষণ কীভাবে সামলাতে হবে সেটি নিয়ে বেশ কাজ করেছে বাংলাদেশ। এবার তারা ব্রুজনের অধীনে বল পায়ে রেখে খেলার দিকে মনোযোগী। সব মিলিয়ে কোচ ও অধিনায়ক থেকে শুরু করে সবাই নতুন ইতিহাস গড়ার জন্য প্রস্তুত।