বাংলাদেশের সামনে ভারত, কী বলছে পরিসংখ্যান?

একসময় দুই দেশের লড়াই মানেই ছিল টান টান উত্তেজনা। বাংলাদেশের ফুটবলে ‘সোনালী যুগের’ সময় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হলেই অন্যরকম আবহ থাকতো। যে কারণে দুই দেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে সময় লাগেনি। কিন্তু কালের বিবর্তনে দুই দেশের ব্যবধানটা ক্রমশ বেড়েছে। বলতে গেলে অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে সুনীল ছেত্রীর দল। তারপরেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত সামনে এলে বাংলাদেশের উত্তেজনাটা এসেই যায়। এবারও ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’কে সামনে রেখে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে পাচ্ছে জামাল ভূঁইয়ারা। তাই ‘অসম প্রতিপক্ষের’ বিপক্ষে নিজেদের উজার করে দেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের।

একসময় যতই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকুক, সাফের পরিসংখ্যান দেখলে কিন্তু ভারত অনেক এগিয়ে। আগের ১২টি প্রতিযোগিতার ৭টিতে ট্রফি ঘরে তুলেছে প্রতিবেশী দেশটি। সেখানে বাংলাদেশের শিরোপা মাত্র একটি! শুধু তাই নয়, সাফে আটবার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। সেখানেও ভারতেরই আধিপত্য, জিতেছে ৫ বার। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। এর মধ্যে ২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ।

অবশ্য ব্যবধান থাকলেও ভারতকে কোনও ম্যাচই সহজে জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। এই তো সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দু’বার মুখোমুখি হয়েছে। কলকাতার সল্টলেকে সাদ উদ্দিনের গোলে এগিয়ে গেলেও ম্যাচটা শেষ মুহূর্তে ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তা নাহলে অনেক দিন পর জয়ের স্বস্তি নিয়েই দেশে ফেরার সুযোগ ছিল। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ফিরতি পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ কোন গোল করতে পারেনি। ম্যাচের অনেক সময় জুড়ে ভারতকে আটকে রেখে শেষের দিকে দুই গোল হজম করতে হয়েছে।

এই অবস্থায় বাংলাদেশকে সহজেই হারানো যায়-এমনটা ধরে নেওয়া কঠিন। তা সাম্প্রতিক ম্যাচের পারফরম্যান্স কিংবা আগের রেকর্ড দেখলেই বোঝা যায়। তবে এবার মালদ্বীপে একদিক দিয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। সেই জায়গায় ভারত এখন পর্যন্ত কোন ম্যাচ খেলতে পারেনি। বলতে গেলে উজ্জীবিত বা আত্মবিশ্বাসী এক বাংলাদেশকে সামনে পাচ্ছে ইগর স্টিমাকের দল।

শিরোপা জেতার জন্য দুই দেশই মালেতে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষুধাটা একটু পুরনো। ২০০৩ সালের পর ট্রফি জেতা হয়নি। ২০০৫ সালে করাচীতে গিয়ে হয়েছে রানার্স আপ। তাই গত চারটি সাফে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়টা বেশ চোখে পড়ে। সেই জায়গায় ভারত ২০১৮ সালে ফাইনালে পৌঁছেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। মালদ্বীপের কাছে হেরে গেছে।

এখন ফাইনালে জিততে হলে জয়ের কোনও বিকল্প নেই। যেহেতু রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের খেলা। তাই চারটি ম্যাচে যে যত জিততে পারবে, তার ফাইনালের পথ তত সুগম হবে। তাই এগিয়ে যাওয়ার মিশনে হার মানেই হোঁচট খেয়ে পেছনে পড়ে যাওয়া। 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারত আছে ১০৭তম স্থানে। বাংলাদেশ অবশ্য অনেক দূরে- ১৮৯। র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় নিলে সহজেই ভারতের জেতার কথা। কিন্তু তা অনেক সময় মাঠের আসল পারফরম্যান্স ফুটিয়ে তোলে না। যদিও এবার সাফের ম্যাচে কী হবে, তা বলা কঠিন। ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী তো বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই ঘোষণা দিয়েছেন। তাই অস্কার ব্রুজনের বাংলাদেশ পয়েন্ট পাবে নাকি ইগর স্টিমাকের ভারত জিতবে- তা ম্যাচ শেষেই পরিষ্কার হবে।