তার সমসাময়িক অনেকেই মাঠের ফুটবল থেকে দূরে। কিন্তু আলী আশফাকের কাছে বয়স শুধুই সংখ্যা। ৩৬ বছর বয়সে এখনও দলের অপরিহার্য খেলোয়াড়। মালদ্বীপের সুপার হিরো। তার ফুটবল শৈলীর জন্য অনেকে তাকে ‘মালদ্বীপের মেসি’ বলে থাকেন। দেশের হয়ে ৮২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫৩ গোল করে ছাড়িয়ে গেছেন সতীর্থদের। ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবারও আছেন আশফাক। আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের বিপক্ষে স্বাগতিকদের অন্যতম সেরা অস্ত্র জ্বলে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আগের ছয় সাফ খেলে সর্বোচ্চ ২০ গোল আশফাকের। যা এই অঞ্চলে কারও নেই। এর মধ্যে ২০১৩ সালের সাফে সর্বোচ্চ ১০ গোল পেয়েছিলেন। পায়ের জাদুতে এখনও পরাস্ত হন অনেক ডিফেন্ডার। ড্রিবলিং থেকে শুরু করে একজন স্ট্রাইকারের সহজাত গুণাবলি তার মধ্যে। ফ্রি কিকেও সিদ্ধহস্ত।
যদিও ক্যারিয়ার এখন গোধূলি লগ্নে। তারপরও আশফাকের ওপর ভরসা রাখছেন মালদ্বীপ কোচ আলী সুজেইন, ‘শেষ ম্যাচে সে (আশফাক) আমাদের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছে। সে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এই অঞ্চলে। তার পারফরম্যান্সে আমরা খুশি। গতকালের অনুশীলনেও সে ভালো করেছে। আমাদের অ্যাটাকিং দ্রুত হয়ে থাকে। আমরা আশা করছি ভালো ফল পাবো।’
কোচের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়ে আশফাক নিশ্চয় আরও উজ্জীবিত হবেন। আর তাতে করে বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কও বাড়বে বৈকি কমবে না। ২০১১ ও ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে হারানোর ম্যাচে আশফাকের গোল আছে। এছাড়া ২০১৬ সালে সবশেষ ৫-০ গোলে হারের ম্যাচে লক্ষ্যভেদ না থাকলেও অ্যাসিস্ট দুটি।
বাংলাদেশের কোচ অস্কার ব্রুজন অবশ্য ছক কষে রেখেছেন। শুধু আশফাক নন, ফরোয়ার্ডে খেলা আলী ফাসিরসহ অন্যদের আটকানোর। স্প্যানিশ কোচ বলেছেন, ‘অবশ্যই, তাদের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। কিন্তু আমরা তা প্রকাশ করতে চাই না। ভারতের তুলনায় এরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। যদি আমরা ক্লিনশিট রাখতে চাই, তাহলে খুব স্মার্ট এবং মনোযোগী হওয়া দরকার। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তারা টুর্নামেন্টে সেরা ডিফেন্সের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে।’
আর এই পরীক্ষাতে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করতে হবে তপু বর্মণ-কাজী তারিকদের।