আবারও শেষের ধাক্কায় স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

খুব বেশি দিন হয়নি। এই তো গত মাসের কথা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি গোলে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের। ঠিক যেন সেই দৃশ্যটাই আবার ফুটে উঠলো শ্রীলঙ্কায় চার জাতি ফুটবল প্রতিযোগিতায়। আবারও পেনাল্টি এবং একেবারে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে গোল হজম। ১-১ গোলের স্কোরলাইন নিয়ে যেখানে ফাইনাল ছিল হাতছোঁয়া দূরত্বে, সেখানে যন্ত্রণার বিষে নীল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ১০ জনের শ্রীলঙ্কা।

মঙ্গলবার কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে ১-১ গোলে স্কোরলাইনে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ করতে যাচ্ছিল। ১০ জনের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালের সুবাস পেতে থাকে লাল-সবুজের দল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় তারা। জার্মানি প্রবাসী আহমেদ ওয়াসিম রাজিকের জোড়ায় ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে চার জাতি প্রতিযোগিতায় ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দ্বীপ দেশটি। ১৯ নভেম্বর সেশেলসের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে লঙ্কানরা।

আরও একবার শেষ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশের কপাল পুড়লো। টানা দুটি সাফের পর এবার চার জাতি প্রতিযোগিতায়! তিন ম্যাচে সেশেলস ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট করে পেয়েছে।তবে স্বাগতিকরা হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিলো।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মুহূর্তফাইনালে উঠতে হলে ১ পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তো দূরের কথা, হেরেই গেছে! বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠের অবস্থা নাজুক, বল ঠিকমতো পায়ে আসছিল না। অনেক জায়গায় জমে ছিল কাদা। এমন অবস্থায় ম্যাচ শুরুর তৃতীয় মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম সুযোগ পায়। কিন্তু রহমতের লম্বা থ্রো-ইন থেকে তপুর হেড লঙ্কান গোলকিপার ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করলে এগিয়ে যেতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু এরপর থেকে বাংলাদেশ যেন নিজেরাই চাপ নিয়ে নেয়। সেই সুযোগে স্বাগতিকরা কিছুটা তেড়েফুঁড়ে খেলতে থাকে।

পঞ্চম মিনিটে স্বাগতিকরা সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সাসাঙ্গা দিলহারার প্রচেষ্টা দূরের পোস্ট দিয়ে যায়। ২৩ মিনিটে আহমেদ ওয়াসিম রাজিক ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যে শট নিলেও ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ হতে হয়। তবে এর দুই মিনিট পর তারা ঠিকই লিড নেয়। বক্সের বেশ বাইরে থেকে শ্রীলঙ্কার এক খেলোয়াড়ের শট জিকো ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরালেও গ্লাভসে জমাতে পারেননি। সামনে থাকা ফরোয়ার্ড ওয়াসিম রাজিক কিছুটা স্লাইড শটে জাল খুঁজে নেন।

এক গোলে পিছিয়ে পড়া ৪-৩-৩ ফরমেশনে নামা বাংলাদেশ কিছুটা খোলস থেকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টা করে। ফলে আক্রমণও হয়েছে। ৩২ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্নারে তপুর হেড গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফিরিয়ে লাল কার্ড দেখেন ডাকসন পুসলাস। পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেন তপু বর্মণ।

১০ জনের শ্রীলঙ্কার ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি। শেষের দিকে সতীর্থের কর্নার থেকে তপুর হেড গোলকিপার সুজন পেরেরা কোনোমতে প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়ক ও রেফারিরাবিরতির পরও বাংলাদেশের দাপট চলতে থাকে। একাদশে আসে কয়েকটি পরিবর্তন। তাতেই প্রতিপক্ষকে প্রায় কোণঠাসা করে ফেলে। ৫০ মিনিটে বদলি মাহবুবুর রহমান সুফিলের হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন স্বাগতিকদের এক ডিফেন্ডার।

৪ মিনিট পর সুফিলের আরও একটি প্রচেষ্টা বার ছুঁয়ে যায়। ৬০ মিনিটে তপুর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৭১ মিনিটে অবশ্য সফল হয়েছে বাংলাদেশ। সতীর্থের ক্রসে জুয়েল রানা প্লেসিং করে গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা কম হয়নি। তবে একের পর এক প্রচেষ্টা কোনও সময় গোলকিপার পেরেরা, কখনও নিজেদের ব্যর্থতায় লক্ষ্যভেদ করা হয়নি।

১-১ স্কোরলাইন হওয়ার পর বরং স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। শেষ দিকে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন তাদের। ৯০ মিনিটে বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দেন। ওয়াসিম রাজিক স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। যোগ করা সময়ের চার মিনিটে বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে আবারও শেষের ধাক্কায় আরেকটি স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল জামালরা!