স্বাধীনতা কাপের মাধ্যমে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বের ২০টি ম্যাচের পর চূড়ান্ত হয়েছে শেষ আট। তালিকায় প্রত্যাশিতভাবেই আছে আবাহনী লিমিটেড এবং বসুন্ধরা কিংস। চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নবাগত স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ। সাইফ স্পোর্টিং, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলও শিরোপার জন্য পরের পর্বে উতরে গেছে। তবে মোহামেডান স্পোর্টিং দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে।
আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে স্বাধীনতা কাপের নকআউট পর্বের লড়াই। তার আগে জেনে নিন কে কীভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আকাশি নীলের সঙ্গী নবাগত দল
খোলনলচে পাল্টে এবারের মৌসুমের অন্যতম সেরা দল আবাহনী লিমিটেড। তারুণ্যনির্ভর দলের সঙ্গে উঁচুমানের বিদেশির সংযোগ ঘটিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই মুন্সিয়ানা দেখিয়ে শিরোপার পথে এগিয়ে যাচ্ছে মারিও লেমসের শিষ্যরা। টানা দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আকাশি নীলেরা।
প্রথম ম্যাচে নবাগত স্বাধীনতা ক্রীড়া চক্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। পরেরটিতে তাদের কাছে ৩-১ গোলে উড়ে গেছে রহমতগঞ্জ। সেখানেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই দলের কপাল পুড়েছে। কোনও ম্যাচই জিততে না পারা রহমতগঞ্জ হেরে বসেছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের কাছেও। ফলে ‘এ’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে খেলবে নবাগত দলটি।
সবার ওপরে শেখ রাসেল
স্থানীয় খেলোয়াড় ছাড়াও এবার বিদেশিদের মধ্যে পরিবর্তন এনেছে শেখ রাসেল। তাতেই ‘বি’ গ্রুপ পর্বে সেরা হয়ে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে দলটি। তিন ম্যাচে তাদের ঝুলিতে ৭ পয়েন্ট। উত্তর বারিধারা এবং বিমান বাহিনীকে হারালেও শেখ জামালের সঙ্গে ড্র করেছে শেখ রাসেল। নকআউট পর্বে তাদের সঙ্গী শেখ জামাল। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট। বিমান বাহিনীকে হারালেও শেখ রাসেল ছাড়াও উত্তর বারিধারার সঙ্গে ড্র করেছে শেখ জামাল। উত্তর বারিধারা ২ পয়েন্ট এবং বিমান বাহিনী ১ পয়েন্ট পেয়ে বিদায় নিয়েছে।
মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের দুর্ভাগ্য
নকআউট পর্বে মোহামেডান স্পোর্টিং নেই, ভাবা যায়! ঐতিহ্যবাহী দলটির দুর্ভাগ্য বলতে হবে। এবারের আসরে চমক দেখানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমান চার পয়েন্ট পেয়েও হেড টু হেডে ছিটকে যেতে হয়েছে শন লেনের দলকে। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের পর্বে উঠেছে সেনাবাহিনী। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে ৯০ মিনিট একই গতিতে খেলার চেষ্টা করেছে তারা। যদিও শেষ ম্যাচে তাদের মধ্যে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়।
‘সি’ গ্রুপের সেরা হলেও সাইফ স্পোর্টিংয়ের খেলা পুরোপুরি মন ভরাতে পারেনি। দলটির হাল ধরে গ্রুপ পর্বে সাফল্য পাইয়ে দিয়েছেন। দিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশে কোচ হয়ে ফিরেছেন তিনি। তার অধীনে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে থেকে নকআউট পর্বে খেলবে সাইফ। সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাকে হারালেও মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করেছে দলটি। ‘সি’ গ্রুপের আরেক দল মুক্তিযোদ্ধাকে ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
নজরকাড়া বসুন্ধরা, মনমাতানো পুলিশ এফসি
স্বাধীনতা কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের শুরুটা হয়েছে নজরকাড়া। বিমান বাহিনীকে ৬ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে পুলিশ এফসির বিপক্ষে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের দলই জিতেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে নিয়মিত একাদশের আট জন না থাকা সত্ত্বেও ৩ গোলে জিতেছে বসুন্ধরা। ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে দলটি। ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে পুলিশ এফসি গেছে পরের পর্বে।
চট্টগ্রাম আবাহনী ও নৌবাহিনীর সমান ২ পয়েন্ট থাকলেও গোল পার্থক্যে ছিটকে গেছে তারা। বিশেষ করে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেকদের নিয়ে গড়া একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে নৌবাহিনী বিদায় কিছুটা হতাশাজনকই বলতে হবে। এছাড়া আগের চেয়ে ক্ষয়িষ্ণু দল গড়ে মারুফুল হকের বন্দর নগরীর দল সেভাবে কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি
১০ ডিসেম্বর
আবাহনী লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
সাইফ স্পোর্টিং বনাম স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ
১২ ডিসেম্বর
শেখ রাসেল বনাম পুলিশ এফসি
বসুন্ধরা কিংস বনাম শেখ জামাল