মাঠভর্তি সমর্থকদের সামনে উজ্জীবিত হয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত হলেও সাহস সঞ্চার করে আধিপত্য দেখিয়েছে। তাতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলের প্রথম শিরোপাও ঘরে তুলেছে মেয়েদের দল। রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ আনাই মোগিনির একমাত্র গোলে রচিত হয়েছে এই ইতিহাস। হেসেছে বাংলাদেশ। তবে আনাই যখন খেলছিলেন, তার খেলা টেন্টে বসে দেখছিলেন কয়েক মিনিটের যমজ ছোট বোন আনুচিং মোগিনি। ফাইনালে চোটের কারণে খেলা হয়নি এই ফরোয়ার্ডের। তার পরেও স্কোয়াডে থেকে এই বিজয়গাথার অন্যতম অংশীদার তিনি।
বয়সভিত্তিক কিংবা জাতীয় দলে রক্ষণভাগের অন্যতম অস্ত্র আনাই মোগিনি। ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠতে তিনি খুব সিদ্ধহস্ত। প্রায়ই প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে পারেন। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন দলকে জিতিয়ে।
বোনের এমন সাফল্যের পর আনুচিং বলছিলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাসহ সবাই আমাদের খেলা দেখেছেন। দিদির গোলের পর তো চারদিকে উল্লাস। সবাই বেশ খুশি হয়েছেন। আমি এখন বাড়ি যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে বাবা-মার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবো।’
অথচ একসময় দুই যমজ বোনের পরিবারে ছিল অভাব-অনটন। ফুটবল খেলেই সেই অভাব এখন দূর হয়েছে বলা চলে। তাই আনাই-আনুচিংয়ের বাবা রিপ্রু মগ আনন্দ যেন আর ধরে না, ‘মেয়েরা টিভি কিনে দিয়েছে। নিজের বাড়িতে খেলা দেখেছি, খুব আনন্দ লাগছে। খেলা শেষে গ্রামের লোকজন এসে বলেছেন, মেয়েরা জিতেছে।’
২০১১ সাল থেকে বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে দুই যমজ বোনের পথচলা শুরু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বয়সভিত্তিক দলসহ জাতীয় দলেও সরব পদচারণা তাদের। এই পথচলাতেই পাহাড়ি কন্যাদের শতদল মেলে ফুটে ওঠা। সৌরভ ছড়ানো পারফরম্যান্সে দু’জনের স্বপ্ন আরও বহুদূর। সামনে জাতীয় দলের হয়েও সাফল্য পেতে চাইছেন। আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে চাইছেন আরও। হয়তো সেদিনও বেশি দূরে নয়।