উদ্বোধনী দিন প্রতিপক্ষ না আসায় মাঠেই গড়ায়নি ফেডারেশন কাপের খেলা। দ্বিতীয় দিন অবশ্য এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রথম ম্যাচে যথাসময়েই মাঠে এসেছে সাইফ স্পোর্টিং ও পুলিশ এফসি। তবে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে গতবারের রানার্সআপ সাইফ স্পোর্টিংকে জিততে দেয়নি প্রতিপক্ষ। শেষ মুহূর্তে গোল করে হার এড়িয়েছে পুলিশ এফসি। দুই দলের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। দুটি গোলই হয়েছে পেনাল্টি থেকে!
ক্রিসমাস ডের পরদিন হওয়ার পরেও তার আমেজ পাওয়া গেলো মাঠে। প্রথম গোলের পর সাইফের রুয়ান্ডান ডিফেন্ডার এমেরি বেইসেঙ্গে তো সাইড লাইনে এসে বড়দিন উদযাপন করলেন ক্রিসমাসের টুপি পরে!
রবিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে আধিপত্য ছিল সাইফ স্পোর্টিংয়ের। আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির অধীনে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ছিলেন সপ্রতিভ। বেশ কিছু মুভও ছিল এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। এছাড়া এমফন উদোহ কিংবা ফয়সাল আহমেদ ফাহিমরা বারবারই লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এক গোলের বেশি পাননি।
বিপরীতে পুলিশ প্রতি আক্রমণে উঠে গোলের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আফগান স্ট্রাইকার আমিরুদ্দিন শরিফি ম্যাচের বড় অংশজুড়ে সুযোগ পেয়েও কিছু করতে পারেনি। যদিও শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে বাঁচিয়েছেন শরিফি।
পুলিশ এফসি ম্যাচ শুরুর ৯ মিনিটে প্রথম সুযোগ নষ্ট করে। আদিল খুশখুশের পাসে আমিরুদ্দিন শরিফি পোস্টে শট নিতে গিয়ে পড়ে গেছেন!
এরপর থেকে আধিপত্য বিস্তার খেলতে থাকে সাইফ স্পোর্টিং। কিন্তু টানা চারটি সুযোগ পেয়েও গোলমুখ উন্মুক্ত করতে পারেনি। ১৫ মিনিটে জামালের ফ্রি-কিক গোলকিপার মোহাম্মদ নেহাল ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেছেন। ২৪ মিনিটে এমফন সানডে বক্সের ভিতরে বল পেয়েও শট নিতে পারেননি।
তিন মিনিট পরও ভাগ্য সহায় ছিল না। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট দূরের পোস্ট দিয়ে চলে গেছে। ৩৮ মিনিটে নাসিরুলের কাটব্যাক থেকে এমেকা ওগবাগের প্লেসিং সোজা গোলকিপারের গ্লাভসে জমা পড়লে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দুটি গোল হয়েছে পরের অর্ধে।
৫৪ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে বাধা দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দেনিলো অগাস্তো। রেফারি সাইমুন হাসান পেনাল্টির বাঁশি দেন সঙ্গে সঙ্গে। স্পটকিক থেকে রুয়ান্ডার ডিফেন্ডার এমেরি বেইসেঙ্গে গোলকিপারের বিপরীত দিক দিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন মুহূর্তেই।
উদযাপনও হয়েছে সেভাবেই। আগের দিন ছিল বড়দিন। হয়তো সেটা চিন্তা করেই ক্রিসমাসের টুপি সঙ্গে করে এনেছিলেন। গোল পেয়েই সাইড লাইনে এসে টুপি পরে উদযাপন করতে দেখা গেলো তাকে।
৬৫ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল পুলিশ এফসির। কিন্তু ইসা ফয়সালের কাটব্যাক থেকে আমিরুদ্দিন শরিফির দুর্বল শট জমা পড়ে গোলকিপারের গ্লাভসে। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে ভাগ্য ফেরে পুলিশের। রিয়াদুল হাসান বাধা দেন দেনিলো অগাস্তোকে। পেনাল্টি থেকে সহজে গোল করে দলকে এক পয়েন্ট পাইয়ে দিয়েছেন আমিরুদ্দিন শরিফি।