৩০ শটের টাইব্রেকারে রাসেলের কাছে হারলো আবাহনী!

ঢাকার মাঠে এমন ঘটনা বিরল। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। উত্তেজনা এমন ছিল যে, টাইব্রেকারে নির্ধারিত ৫টি শটেও ভাগ্য নিষ্পত্তি হচ্ছিল না। সাডেন ডেথে এসে শেষ পর্যন্ত ১৫তম শটে নির্ধারিত হয়েছে ম্যাচের ভাগ্য! তাতে ফেডারেশন কাপে আবাহনী লিমিটেডকে ১৩-১২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেখ রাসেল।

উত্তর বারিধারা নাম প্রত্যাহার করায় ‘বি’ গ্রুপ থেকে আগেই আবাহনী লিমিটেড ও শেখ রাসেলের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে আবাহনী অনেকটা এগিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করেছে।

আবাহনীর হয়ে টাইব্রেকারে প্রথম ৫টি শটে লক্ষ্যভেদ করেন দোরিয়েন্তন, রাফায়েল অগাস্তো, ইমন মাহমুদ ও কলিনদ্রেস। নাবীব নেওয়াজ জীবনের শট লাগে পোস্টে। সাডেন ডেথে এসে মিলাদ শেখ, নুরুল নাইম ফয়সাল, মনির আলম, রেজাউল করিম, মাহফুজ হাসান প্রীতম, দোরিয়েন্তন, রাফায়েল অগাস্তোর পাশাপাশি জীবনও গোল পেয়েছেন। ইমন মাহমুদ অবশ্য এই দফায় ব্যর্থ হয়েছেন।

শেখ রাসেলের এইলতন মাচাদো, হেমন্ত ভিনসেন্ট, আইজার আখমাতভ ও নাসিরুদ্দিন চৌধুরী গোল পেলেও ইসমায়েল রুটি ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেছেন। সাডেন ডেথে এসে দলটির মোহাম্মদ জুয়েল, রহমত মিয়া, খালেকুরজ্জামন, মানিক মোল্লা, এইলতন মাচাদো, হেমন্ত ভিনসেন্ট, আশরাফুল রানা, আইজার আখমাতভ ও নাসিরুদ্দিন গোল করেছেন। শুধু গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন সাদ উদ্দিন।

এর আগে একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে আবাহনী। দুই ডিফেন্ডার রেজাউল করিম ও মনির হোসেন, মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও উইঙ্গার জুয়েল রানা শুরু থেকে খেলেছেন। রাফায়েল অগাস্তোর সঙ্গে নাবীব নেওয়াজ জীবন মধ্যমাঠে শাসন করার চেষ্টা করেছেন। সামনে কলিনদ্রেস-দোরিয়েন্তনও তটস্থ রাখেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের। সমান তালে খেলার চেষ্টা করেছে শেখ রাসেলও। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ।

আবাহনী শুরুতে এগিয়ে যায় ৮ মিনিটে। মানিক হোসেন মোল্লা ঠিকঠাক বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ছুটে গিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেছেন দোরিয়েন্তন।

শেখ রাসেলও সমতা ফেরায় ২০ মিনিটে। এইলতনের নিচু ক্রসে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ইসমায়েল রুটি তারারেজের শট প্রীতম ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি; ফিরতি শটে জাল কাঁপান মান্নাফ রাব্বী।

তিন মিনিট পর দুরূহ কোণ থেকে শেখ রাসেলের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার চিয়াগো এদুয়ার্দো দো আমারালের বাঁ পায়ের কোনাকুনি শট অল্পের জন্য বেরিয়ে গেলে গোল পাওয়া হয়নি।

বিরতির পর বলতে গেলে দাপট ছিল আবাহনীর। ৫৪ মিনিটে কলিনদ্রেসের কর্নারে মিলাদ শেখ সোলায়মানি হেড করলেও অল্পের জন্য সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ৩ মিনিট পর কলিনদ্রেসের ভলি ফিরিয়ে দিয়েছেন গোলকিপার। ফিরতি বলে জীবনের শট এক ডিফেন্ডার ব্লক করেছেন।

৬১ মিনিটে স্কোরলাইন ২-১ করে আবাহনী। রাফায়েলের বাঁ পায়ের ক্রসে দোরিয়েন্তন ফাঁকায় হেড করে জাল কাঁপিয়েছেন।

এর পরেই শেষ ১০ মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফল হয় শেখ রাসেল। ৮৪ মিনিটে সমতা ফেরায় তারা। হেমন্ত বিশ্বাসের হেড থেকে চলতি বলেই ব্রাজিলিয়ান এইলতন মাচাদো লক্ষ্যভেদ করেছেন। এই গোলের পর নিশ্চিত হয়ে যায় খেলা গড়াচ্ছে শুটআউটে।

‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে আবাহনী আগামী ২ জানুয়ারি সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শেখ জামাল বা রহমতগঞ্জের।