দুই বছর আগে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনী হারবে, তা হয়তো ভাবেননি অনেকেই। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে ছিটকে যায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ওই ম্যাচের পর একই টুর্নামেন্টে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। আগামীকাল (রবিবার) ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নামছে আবাহনী-রহমতগঞ্জ। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে প্রতিপক্ষকে সমীহ করছে ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। হারের তিক্ত স্মৃতি মনে ধারণ করে নতুন উদ্যমে মাঠে নামার অপেক্ষায় তারা।
বৃহস্পতিবার রাতের সেমিফাইনালে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সাইফ স্পোর্টিংকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। রোমাঞ্চকর ম্যাচে খেলোয়াড়দের ওপর বেশ ধকল গেছে। তাই খেলোয়াড়দের রিকভারির দিকে বেশি মনোযোগ আবাহনী কোচ মারিও লেমসের। আজ (শনিবার) বাফুফে ভবনে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, ‘দুই দিন আগে আমরা সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলেছি। রিকভারিটা এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেহেতু মাঝে খুব বেশি সময় পাইনি। এ কারণে রিকভারি এবং ফাইনালের জন্য ছেলেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’
দুই বছর আগের হারের তিক্ত স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি লেমস। প্রতিপক্ষের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেছেন, ‘রহমতগঞ্জের কাছে হারটি আমার মনে আছে। আমি এগুলো ভুলি না। তাদের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। জিলানিকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি, সে চমৎকার একজন কোচ। এছাড়া গত মৌসুমে সানডে আমাদের সঙ্গে ছিল, ওয়ালি ফয়সালও ছিল। তারা চমৎকার খেলোয়াড়। এখন তারা প্রতিপক্ষ। সানডে দারুণ গোল স্কোরার। নিশ্চিতভাবে আগামীকাল (রবিবার) সে তার সেরা ফুটবল খেলবে। তাকে জায়গা দেওয়া যাবে না।’
দুই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার দোরিয়েন্তন ও রাফায়েল অগাস্তো চোটে ভুগছেন। এছাড়া সুশান্ত ত্রিপুরা ও মোহাম্মদ হৃদয়ও চোটে পড়েছেন। তবে এ নিয়ে লেমস তেমন চিন্তিত নন, ‘চোট নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত নই। আমি মনে করি, কঠিন ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের পরখ করে নিতে আরও সাহায্য করে। আমি মনে করি না আমাদের মাঝমাঠে বড় কোনও সমস্যা আছে।’
অধিনায়ক নাবীব নেওয়াজ জীবন ক্লান্তি ছাপিয়ে এগিয়ে যেতে চাইছেন, ‘আমরা আসলে অনেক ক্লান্ত। দুই দিন পরপর খেলা হচ্ছে। চেষ্টা করছি দ্রুত রিকভার করার জন্য। কাল (রবিবার) আমরা ইনশাআল্লাহ মাঠে যাবো জয়ের জন্য।’