ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের শাপমোচন, আবাহনীর ড্র

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে অনুশোচনায় পুড়ছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন। তাগিদ অনুভব করছিলেন কিছু একটা করার। ওদিকে আবার প্রতিআক্রমণ থেকে পুলিশ এফসি লক্ষ্যভেদ করে জয়ের সুবাস পাচ্ছিলো। ঠিক এরপরই দোরিয়েন্তন ‘শাপমোচন’ করলেন। প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে যোগ করা সময়ে ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের হেডে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ১-১ গোলে ড্র করেছে পুলিশের সঙ্গে।

আবাহনীর নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার হিসেবে এরই মধ্যে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন সুনাম কুড়িয়েছেন। লিগে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি ৩১ বছর বয়সী তারকার কাছ থেকে এসেছে। এছাড়া দুটি টুর্নামেন্টে ৮ গোল আছে তার। সেই ব্রাজিলিয়ান কিনা করলেন অবিশ্বাস্যভাবে পেনাল্টি মিস!

মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল আবাহনী। আগের ম্যাচের একাদশই খেলেছে এদিন। তবে শুরুর দিকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। অন্তত দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে তারা।

ম্যাচ ঘড়ির ১৪ মিনিটে বিপদ ডেকে আনতে বসেছিলেন গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেল। সতীর্থের উদ্দেশে তার শটের সময় পা বাড়িয়েছিলেন সামনে থাকা পুলিশের আফগান স্ট্রাইকার আমিরউদ্দিন শরিফিও। বল বাইরে দিয়ে গেলে বেঁচে যায় আবাহনী। দুই মিনিট পর পুলিশের আরেকটি সুযোগ নষ্ট হয় মরক্কোর মিডফিল্ডার আদিল কুসকুসের কর্নারে কেউ মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে।

আবাহনী এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের করে নিতে থাকে। যদিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।

২৩ মিনিটে কলিনদ্রেসের ফ্রি কিক থেকে মিলাদ শেখ সোলায়মানি হেড নিলেও তা গোলকিপার মোহাম্মদ নেহালের গ্লাভসে জমা পড়ে। সাত মিনিট পর দোরিয়েন্তনের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া ক্রসে কলিনদ্রেস লক্ষ্যে শট নেওয়ার আগেই এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন

৩২ মিনিটে রাকিবের শট ডেনিলোর হাতে লাগলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর প্রয়োজনবোধ করেননি। মিনিট সাতেক পর কলিনদ্রেসের নিচু কর্নারে দোরিয়েন্তন ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন।

দুই মিনিট পর পেনাল্টি পায় আবাহনী। ডিফেন্ডার আকিবুর রহমান বক্সে ঢোকা জুয়েল রানাকে ফেলে দেন। পেনাল্টির বাঁশি দেন সাইমন হাসান। কিন্তু স্পট কিক থেকে দোরিয়েন্তনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

বিরতির পর আবাহনী প্রায় একচেটিয়া খেলতে থাকে। আরেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো বদলি নেমে খেলার ধার বাড়িয়েছেন। তবে ৪৯ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে পুলিশ এগিয়ে যেতে পারতো। তবে ইসা ফয়সালের ক্রসে বদলি ইসানুর রহমানের হেড গোলকিপার রুখে দেন। আবাহনী ততক্ষণে গোল করার জন্য মরিয়া। কিন্তু গোলকিপার মোহাম্মদ নেহাল ছিলেন তেকাঠির নিচে দুর্বার।

৬৩ মিনিটে সোহেল রানার ক্রসে জুয়েল রানা পেছন থেকে দৌড়ে এসে কোনাকুনি হেডে জাল কাঁপালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন।৭২ মিনিটে সোহেল রানার ক্রসে কলিনদ্রেসের জোরালো হেড গোলকিপার কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।

চার মিনিট পর পুলিশ দলে হাসি। ৭৬ মিনিটে ইসানুরের ক্রস মিলাদ সোলেমানি আটকাতে পারেননি। বক্সেই থাকা শরিফিও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি, টুটুল হোসেন বাদশা গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকায়। ছুটে এসে বুলেট গতির কোনাকুনি শটে সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দেনিলসন রদ্রিগেজ রোলদাও। গোলকিপার সোহেল আটকানোর কোনও সুযোগ পাননি।

গোল শোধে আবাহনী কম চেষ্টা করেনি। ৮০ মিনিটে নুরুল নাইম ফয়সালের জোরালো শট গোলকিপার রুখে দিয়েছেন। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে শাপমোচন করেছেন দোরিয়েন্তন। কলিনদ্রেসের ক্রসে তার হেড এক ড্রপ খেয়ে জালে জড়ায়। তাতে ১ পয়েন্টের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।