বেঞ্চ থেকে উঠে লিভারপুলকে পথ দেখালেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার

কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। চেষ্টার পর চেষ্টা, আক্রমণের পর আক্রমণ; কিন্তু গোলের তালা খুলতে পারছিল না লিভারপুল। খেলার অবস্থা দেখে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইয়ুর্গেন ক্লপ বদল আনলেন। নামালেন রবের্তো ফিরমিনোকে। বদলি হয়ে নামা এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারই গড়ে দিলেন লিভারপুলের ভাগ্য। তার গোলেই ভাঙে ইন্টার মিলানের প্রতিরোধ। পরে মোহামেদ সালাহ স্কোরশিটে নাম তুললে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগটা নিজেদের করে নেয় অলরেডস।

বুধবার রাতে মিলানের স্তাদিও গুইসেপ্পে মেয়াজ্জায় চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার-লিভারপুল। খেলার শেষ ১৫ মিনিটে ইংলিশ ক্লাবটি চিত্র পাল্টে দিয়েছে। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইন্টারের মাঠ থেকে ফিরেছে ২-০ গোলের জয় নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে অলরেডস। কারণ ২ গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয় লেগ খেলতে নামবে নিজেদের মাঠে।

ইন্টারের রক্ষণের পরীক্ষা নিলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি লিভারপুল। প্রধমার্ধে সাদিও মানে ভালো একটা সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেননি। আক্রমণভাগের সমন্বয়ের কিছুটা ঘাটতি থাকায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তন আনেন কোচ ক্লপ। ডিয়েগো জোতার জায়গায় নামিয়ে দেন ফিরমিনোকে। ব্রাজিলিয়ান এই স্ট্রাইকারই এনে দেন আনন্দের উপলক্ষ।

৭৫ মিনিটে ফিরমিনোর গোলে এগিয়ে যায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। অ্যান্ডি রবার্টসনের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। লিভারপুল পেয়ে যায় মূল্যবান অ্যাওয়ে গোল। ঘরের মাঠে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠা ইন্টার রক্ষণ ঠিক রাখতে পারেনি। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৮৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সালাহ।

এদিকে শেষ ষোলোর অন্য খেলায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। রেড বুল সলসবুর্গের মাঠে একেবারে শেষ মুহূর্তে কিংসলে কোমানের লক্ষ্যভেদে ১-১ গোলে ড্র করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

২১ মিনিটে সলসবুর্গ এগিয়ে যায় চুকাউবুইকে আদামুর গোলে। এরপর সুযোগের পর সুযোগ, শটের পর শট, কিন্তু সমতায় আর ফিরতে পারছিল না বায়ার্ন। তবে হাল ছাড়েনি। তারই পুরস্কার পায় নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে। দারুণ এক গোল করে জার্মান ক্লাবকে ড্র এনে দেন কোমান। বায়ার্ন এখন শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ খেলবে ঘরের মাঠ আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায়।