দুই বাংলার লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর সুযোগ হাতছাড়া করলো আবাহনী লিমিটেড। এএফসি কাপের প্লে-অফ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে ‘ফাইনাল’ জেতা হলো না মারিও লেমসের দলের। স্বাগতিকদের অস্ট্রেলিয়ান তারকা ডেভিড উইলিয়ামস একাই ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বদলে দেন। হ্যাটট্রিক করে দলকে এনে দেন এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। বিপরীতে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েল্তন চোটে আক্রান্ত। তার জায়গায় বসনিয়ার স্ট্রাইকার নেদো তুর্কোভিচের অভিষেক হলেও আলো ছড়াতে পারেননি। বরং কলিনদ্রেস প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ করেছেন। আর রক্ষণে নিয়মিত খেলা দুই ডিফেন্ডার না থাকায় দুর্বলতা বেশ চোখে পড়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচের প্রথমার্ধে মোহনবাগান দাপট দেখিয়ে ২ গোল আদায় করে নেয়। ম্যাচের শুরু থেকে মোহনবাগান আক্রমণে। বল দখলের পাশাপাশি আধিপত্য রেখে খেলেছে। সবুজ-মেরুনদের তোপের মুখে আবাহনীর রক্ষণ এলোমেলো হতে শুরু করে। প্রথমার্ধেই তাই স্বাগতিকরা ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে।
যদিও ম্যাচের প্রথম আক্রমণ ছিল আবাহনীর। ম্যাচ ঘড়ির ৪ মিনিটে কলিনদ্রেসের ফ্রি কিকে এক সতীর্থের হেড গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে। তবে ২ মিনিট পর মোহনবাগান এগিয়ে যায়। নিজেদের দর্শকদের উপস্থিতিতে উইলিয়ামস লক্ষ্যভেদ করে সমর্থকদের আনন্দে ভাসান।
ষষ্ঠ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ডিফেন্সচেরা পাসে জনি কাউকোর বাঁ প্রান্তের মাপা ক্রসে উইলিয়ামস ফাঁকায় প্লেসিং করে দলকে এগিয়ে নেন। মিলাদ শেখ একটু পেছনে থেকেও আটকাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকারকে।
গোল শোধে আবাহনী ১২ মিনিটে সুযোগ পেয়েছেল। কলিনদ্রেসের সরাসরি ক্রস গোলকিপার অমরিন্দর কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। কর্নার থেকে কলিনদ্রেসের ভাসানো বলে তুর্কোভিচ হেড দূরের পোস্ট দিয়ে যায়।
২৩ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক নাবীব নেওয়াজ জীবন। জুয়েল রানা মাঠে নামেন। এর ৬ মিনিট পর মোহনবাগান ব্যবধান দ্বিগুণ করে। প্রবীর দাসের ডান প্রান্তের ক্রসে উইলিয়ামস প্লেসিং করে দলকে আবারও এগিয়ে নেন। ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা তাকে আটকাতে পারেননি।
৩৬ মিনিটে উইলিয়ামস গোলকিপারকে একা পেয়েও হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে পারেননি। আবাহনী ফাঁকে ফাঁকে কিছুটা চেষ্টা করেছে। তবে সফল হতে পারেনি। ৩৯ মিনিটে যেমন কলিনদ্রেসের ফ্রি কিকে তুর্কোভিচ পা ছোঁয়াতে পারেনি। ৪৫ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর শট গোলকিপার সোহেল শুয়েপড়ে প্রতিহত করে দলকে তৃতীয় গোল হজম করতে দেননি।
যোগ করা সময়ে মিলাদের ফ্রি কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশা নিয়ে বিরতিতে যায় সফরকারীদের।
২ গোলে পিছিয়ে থেকে আবাহনী হাইলাইন ডিফেন্স রেখে উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে থাকে। প্রতিপক্ষকে অনেকটা চেপে ধরে কিছুটা সফলও হয। ৪৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে কলিনদ্রেসের সরাসরি শট গোলকিপার হাত দিয়ে কোনোমতে রক্ষা করেন।
তবে ৬০ মিনিটে ব্যবধান কমান কলিনদ্রেস নিজেই। রাকিবের পাসে কলিনদ্রেস বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান। গোলকিপার সেই পথে ঝাঁপালেও রুখতে পারেননি।
৬৭ মিনিটে বক্সের ভেতরে জুয়েল রানার শট দূরের পোস্ট দিয়ে গেলে ম্যাচে সমতা ফেরেনি। তবে শেষ ১৫ মিনিট মোহনবাগান আবারও স্বহিমায়। ৮৫ মিনিটে হুগো ভুমোর পাসে উইলিয়ামস হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। গোলকিপার সোহেল এগিয়ে আসলে ফাঁকায় লক্ষ্যভেদ করতে সমস্যা হয়নি অজি তারকার।
এই জয়ে আগামী মে মাসে ‘ডি’ গ্রুপে তাই বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে গোকুলাম কেরালা এফসি এবং মাঝিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের সঙ্গে জায়গা করে নিলো এটিকে মোহনবাগান।