এবারের ইউরোপা লিগে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ক্লাবকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। নিজেদের কারণে যতটা, তার চেয়ে বেশি সমর্থক ও প্রতিপক্ষদের কারণে। ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে বার্সেলোনাকে হারিয়ে আসা তাদের ক্লাব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ওই ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে তাদের ৩০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বকে অন্যভাবে জানান দেয়। সেই ফ্রাঙ্কফুর্টের ঘরেই উঠলো ইউরোপা লিগের ট্রফি। ফাইনালে স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দ্বিতীয়বার জিতলো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাটি।
বুধবার রাতে সেভিয়ার মাঠ রামন সানচেস পিজুয়ানে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট-রেঞ্জার্স। রোমাঞ্চকর ফাইনালে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়েও স্কোরলাইন থাকে একই। এরপর ফল নিষ্পত্তির জন্য ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে রেঞ্জার্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাটির শিরোপা জিতেছে জার্মান ক্লাবটি।
তাদের সাফল্যে রেঞ্জার্সের অপেক্ষা আরও বাড়লো। স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে সফল দলটির ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় কেবলই হতাশা। ইউরোপা লিগের শিরোপা তাদের জেতা হয়নি কখনও। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ফাইনালে উঠে হারতে হয়েছিল। এবার সুযোগ তৈরি হলেও আবারও হৃদয় ভাঙলো তাদের।
অথচ সেভিয়ার মাঠে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল রেঞ্জার্সই। ৫৭ মিনিটে তারা এগিয়ে যায় জো আরিবোর লক্ষ্যভেদে। তবে খেলায় ফিরতে সময় নেয়নি ফ্রাঙ্কফুর্ট। ৬৯ মিনিটে জার্মান ক্লাবটি সমতায় ফেরে রাফায়েল সান্তোস বোরের লক্ষ্যভেদে। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই আর গোল করতে পারেনি।
ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও হয়নি গোল। ফল নিষ্পত্তির জন্য দরকার পড়ে পেনাল্টি শুটআউটের। স্পট কিকে প্রথম তিনটি শট দুই দলই লক্ষ্যভেদ করতে পারে। তবে চতুর্থ শট রেঞ্জার্স মিস করলে গোল করে এগিয়ে যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট। এরপর পঞ্চম শটে রেঞ্জার্স গোল করার পর দেখার অপেক্ষা ছিল জার্মান ক্লাবটি জাল খুঁজে পায় কিনা। ম্যাচে গোল পাওয়া সান্তোস বোরে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করলে ১৯৮০ সালের পর আবারও ইউরোপা লিগের শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে ফ্রাঙ্কফুর্ট।