লো ডিফেন্ডিং করে দ্রুত আক্রমণে উঠে খেলার চেষ্টা করে অনেকটা সফল হয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে গোল খেয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। তবে শেষের দিকে এসে বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙেছেন তুর্কমেনিস্তান অধিনায়ক স্বয়ং। আর একের পর এক সুযোগ তৈরি করে একের বেশি গোল না পাওয়ার হতাশায় নিমজ্জিত জামাল ভূঁইয়ারা। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে শনিবারের ম্যাচে লাল-সবুজ দলের একমাত্র গোলদাতা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের তাই আফসোসটা বেশি। ম্যাচ শেষে কুয়ালালামপুরের হোটেলে ফিরে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে উঠে আসা উইঙ্গার এই ম্যাচ নিয়ে নানান কথা বললেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে।
বাংলা ট্রিবিউন: তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে গোল পেলেন। সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ। শেষের দিকে আবারও গোল খেয়ে পয়েন্ট পাওয়া হলো না। কী বলবেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: আসলে এই পরিস্থিতিতে শুধু আমি নই, সবারই খারাপ লাগছে। আমরা অনেক গোলের সুযোগ পেয়েছি। এই ম্যাচটি আমাদের হারার কথা নয়। কিন্তু আমরা হেরেছি। তারপরও বলবো, আমরা ভালো খেলেছি। নিজেদের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বনাথের লম্বা থ্রো-ইন নিয়ে আপনাদের কী পরিকল্পনা ছিল?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: সেট পিস থেকে কীভাবে আমরা গোল করবো তা আগে থেকে পরিকল্পনায় ছিল। অনুশীলনও হয়েছে। রাকিবের ব্যাক হেডের সময় জায়গা করে নিই। আমার টার্ন আসতেই হেডে লক্ষ্যভেদ হয়েছে। তাই সেই সময়ের উচ্ছ্বাসটা ছিল অন্যরকম।
বাংলা ট্রিবিউন: শুনেছি গোলটি মাঠে আসা দর্শকদের উৎসর্গ করেছেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: ঠিকই শুনেছেন। মাঠে অন্যদের সঙ্গে আমার চকরিয়ার বন্ধুরা এসেছিল। ওরা আমাদের নানানভাবে সহযোগিতা করছে। তাই মাঠে আসা দর্শকদের প্রতি গোলটি উৎসর্গ করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় দলের হয়ে আপনি তিনটি গোল পেয়েছেন। কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: অবশ্যই তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষের গোলটি। কেননা ওরা তো শারীরিক দিকসহ সবদিক দিয়ে এগিয়ে। এর আগে সেশেলস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল পেয়েছিলাম।
বাংলা ট্রিবিউন: আবারও ম্যাচে ফিরে আসি। স্কোরলাইন একপাশে রাখলে কাবরেরার লো ব্লকের পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণে ওঠার কৌশলে আপনারা সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। তুর্কমেনিস্তান তো ৫৪ ধাপ এগিয়ে। কীভাবে সম্ভব হলো?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: আমরা কিন্তু আগের ম্যাচগুলোতে এভাবে খেলার চেষ্টা করে আসছি। একটু একটু করে সফলও হচ্ছি। তুর্কমেনিস্তান ম্যাচকে ঘিরে দুই দিন নানান কৌশল নিয়ে অনুশীলন করেছি। ম্যাচে সেভাবে খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা বুঝতে পারছিলাম, রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণে উঠতে পারলে সাফল্য আসবে। তাই আগের চেয়ে পারফরম্যান্স ভালোও হয়েছে। পাসিং কিংবা বিল্ডআপ ফুটবলে উন্নতি হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন: হাভিয়ের কাবরেরা কোচ হয়ে এসেছেন বেশি দিন হয়নি। তার অধীনে বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ খেললো। কোচের কৌশলের সঙ্গে কতোটুকু মানিয়ে নিতে পেরেছেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: কোচ যেভাবে চাইছেন সেভাবে খেলার চেষ্টা করছি। আমরা কিন্তু ওপেন প্লেতে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দিচ্ছি না। সেট পিস থেকে গোল হজম করতে হচ্ছে। তা যেন না হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। আর আমাদের দ্রুত আক্রমণে উঠে গোল করার চেষ্টা থাকছে। আগের চেয়ে পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে। আসলে নতুন কোচকে সময় দিতে হবে। আমরাও তার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলা ট্রিবিউন: তুর্কমেনিস্তান ম্যাচে একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের অভাব কী অনুভূত হয়েছে?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: একজন ভালো স্ট্রাইকার হলে তো দলের জন্য ভালো হতো। তবে তরুণ সাজ্জাদ কিন্তু খারাপ করছে না। ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে খারাপ করছে না। গোল ছাড়া কৌশল অনুযায়ী সবই করছে ও৷ আমরা সবাই ওর খেলা দেখে সন্তুষ্ট।
বাংলা ট্রিবিউন: শেষ ম্যাচ তো স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। নিশ্চয়ই মঙ্গলবারের ম্যাচে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করছেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: তা তে অবশ্যই। দুই দিন সময় পাবো। কোচ গেম প্ল্যান করবেন। আশা করছি, আরও ভালো পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারবো। যদিও ওরা ভালো দল। দর্শক থাকবে তাদের সমর্থনে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইতিবাচক কিছু করার।পয়েন্ট নেওয়ার।