সুলেমান দিয়াবাতের মা দারুণ ফুটবল ভক্ত। ছেলের খেলা সবসময় অনুসরণ করে থাকেন। তাই কোনও সমস্যা হলেই মায়ের শরণাপন্ন হন ৩১ বছর বয়সী মালিয়ান স্ট্রাইকার। এই তো প্রিমিয়ার লিগে পিটার থ্যাঙ্কগড যখন ২০ গোল করে তাকে ছাড়িয়ে যান, সেই সময় হতাশ হননি। সুদূর মালি থেকে ফোনে মা-ই ভরসা জুগিয়েছেন। ম্যাচের আগে দিয়াবাতেকে দারুণ উদ্দীপ্ত করেছিল মায়ের এই কথা- ‘তুমি পারবে অন্যদের ছাড়িয়ে যেতে। শুধু নিজের খেলার দিকে মনোযোগ দাও। নিশ্চয় গোল পাবে।’
প্রিমিয়ার লিগে সবশেষ ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ৪ গোল করে ঠিকই দিয়াবাতে মায়ের কথা রেখেছেন। সেই সঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন থ্যাঙ্কগডসহ অন্যদের। ২১ গোল করে এবারের লিগে সেরার মসনদে জায়গা হয়েছে দিয়াবাতের। এমন পারফরম্যান্সের পর যারপরনাই খুশি মালির স্ট্রাইকার খুশি। ম্যাচশেষে মায়ের সঙ্গে কথা বলে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করতে ভুল করেননি।
দিয়াবাতেই নিজেই বাংলা ট্রিবিউনকে তা ভাগাভাগি করেছেন এভাবে, ‘বাংলাদেশে আমি ঠিকঠাকভাবে খেলছি তাতে করে মা আগে থেকে খুশি। মৌসুমের শুরুর আগে মাকে মোহামেডানের মাফলার উপহার দিয়েছিলাম। জানিয়েছিলাম বিস্তারিত। এবার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আমার নাম দেখে মা বেশ অনুপ্রাণিত করেছে। শেষ ম্যাচের আগে তো বেশ ভরসা জুগিয়েছেন। আসলে মা-ই আমার অন্যতম প্রেরণা।’
গত মৌসুমে করেছিলেন ১৩ গোল। আর এবার দিয়াবাতের ২২ ম্যাচে ২১ গোলের মধ্যে তিনটি হ্যাটট্রিক আছে। দুটি রহমতগঞ্জ ও অন্যটি চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে ব্রাজিলিয়ান-কোস্টারিকানসহ অন্যদের ছাড়িয়ে সেরা গোলদাতার হওয়ার নেপথ্যে এই তারকা বলেছেন, ‘আমি সবসময় কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি। অনুশীলনও করে থাকি। সেই ফল পেয়েছি। বলতে পারেন কঠোর সাধনায় আমার এই সাফল্য এসেছে। তবে লিগ বেশ কঠিন ছিল। সবার সঙ্গে প্রতিন্দ্বিতা করতে হয়েছে অনেক।’
দিয়াবাতে সাফল্য পেলেও তার ক্লাব মোহামেডান কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। এবারও লিগে হয়েছে পঞ্চম। দিয়াবাতে এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আমাদের দলটি ছিল তারুণ্যনির্ভর। এই দল নিয়ে আমরা শুরু থেকে লড়াই করে আসছি। তবে শিরোপা লক্ষ্য আমাদের জন্য কঠিন ছিল। এক থেকে চারের মধ্যে থাকতে পারলে ভালো হতো। তা হয়নি। তবে আগামীতে আরও ভালো দল হচ্ছে। আশা করছি, সামনের দিকে সমর্থকদের মন জয় করবে ক্লাবটি।’
দিয়াবাতের এই সাফল্যের কারণে আগামী মৌসুমের জন্য মোহামেডান টিম ম্যানেজমেন্ট তার সঙ্গে চুক্তি সেরে রেখেছে। ক্লাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুপ্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই তারকা, ‘আমি এই দেশে খেলছি কয়েক বছর হলো। ক্লাবের হয়ে খেলে এই দেশের সবকিছুই জানা হচ্ছে। এখন সুযোগ পেলে বাংলাদেশের জার্সিও গায়ে চড়াতে চাই। তবে এজন্য আগে নাগরিকত্ব নিতে হবে। এরপর সুযোগ পেতে হবে দলে। তবে সেই পথ যে কঠিন তা এলিটা কিংসলকে দেখে মনে হচ্ছে।’
১৩ ও ২১ গোলের পর আগামী মৌসুমে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলার অপেক্ষায় মালিয়ান ফুটবলার।