জীবন কি স্প্যানিশ কোচের প্রতিহিংসার শিকার?

হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ দল সেভাবে সাফল্য না পেলেও বিতর্ক কিন্তু পিছু ছাড়ছে না। নানান কারণে আলোচনায় ৩৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ। প্রথমবারের মতো কোনও জাতীয় দলের (বাংলাদেশ) দায়িত্ব নিয়ে সফলতার মুখ দেখছেন কমই। বিপরীতে দল গঠন নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। সবশেষ আবাহনী লিমিটেডের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের জায়গা না পাওয়া তেমন বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

অথচ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ৩২ বছর বয়সী জীবন বর্তমান দলে ডাক পাওয়া অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। গত মৌসুমে ৯ গোল করে বাকিদের ছাড়িয়ে গেছেন। এরমধ্যে লিগে গোল ছিল ৫টি। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে ১৭ ম্যাচে মাঠে ছিলেন ১ হাজার ৭৩ মিনিট। সেখানে বসুন্ধরা কিংসের দুই স্ট্রাইকার সুমন রেজা ১৬ ম্যাচে ৫১৯ মিনিট ও মতিন মিয়া ১৫ ম্যাচে ৭১৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। লিগে দুজনেরই গোল সংখ্যা সমান (চারটি)।

দলে ডাক পাওয়া সাইফ স্পোর্টিংয়ের তরুণ ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেনও জীবন থেকে অনেক পিছিয়ে। ১২ ম্যাচে ৩৬২ মিনিট খেলেছেন। আক্রমণভাগের এই তৃতীয় খেলোয়াড়ও গোল করেছেন চারটি।

জাতীয় দলের গোল সংখ্যা বিবেচনায় নিলে সেখানেও এগিয়ে থাকবেন জীবন। সেখানে তার গোলসংখ্যা ৫টি। অথচ মতিন মিয়ার রয়েছে দুটি ও সুমন রেজার একটি করে গোল। আর সাজ্জাদ তো এখন পর্যন্ত গোলের খাতাই খোলেননি। তাছাড়া জীবন প্রয়োজনে ‘নম্বর নাইন’ ছাড়াও ‘টেন’ পজিশনে খেলতে সিদ্ধহস্ত। শুধু তাই নয়, দলের প্রয়োজনে নিচে নেমে ডিফেন্ডিংও করতে পারেন। দেশের খেলোয়াড়দের মানের দিক থেকে এখনও অন্যদের চেয়ে কম এগিয়ে নন। তাই সব মিলে আগামী ২২ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ফিফা প্রীতি ম্যাচে একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে ছাড়াই দল গড়তে যাচ্ছেন কাবরেরা।

অবশ্য এর পেছনে যে কোচের ব্যক্তিগত রোষ থাকতে পারে- এমন গুঞ্জনই চাউর হয়েছে ফুটবল পাড়ায়।  একটি ঘটনাই এর মূল কারণ। ঘটনাটা এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের আগে। অনুশীলনে দেরি করে আসা নিয়ে কোচের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছিল জীবনের। কোচ এতই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে তখন ক্যাম্পেই জায়গা হয়নি তার। ঘটনা শুরু সেখান থেকেই। যদিও আবাহনীর স্ট্রাইকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কোচের মন জয় করতে পারলেন কই? না হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো করেও ২৭ জনের প্রাথমিক দল থেকে কীভাবে বাইরে থাকেন?

নিজের কোচিং দর্শনের সঙ্গে যায় না বলে জীবন নেই- এমন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কাবরেরা। যদি তাই হয়, তাহলে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে জীবন কীভাবে খেলেছেন। পরে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে কীভাবে ডাক পেয়েছিলেন। তাহলে কি প্রতিহিংসার শিকার দেশের অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার?

কম্বোডিয়া ও নেপালের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ যেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে চাইছে, সেখানে জীবনের মতো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের দলে জায়গা না পাওয়াটা অবাক করার মতোই। তাছাড়া দল নির্বাচন নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে। এবারের দলে বসুন্ধরা কিংস থেকে রয়েছেন সর্বোচ্চ ১২ জন খেলোয়াড়। যারা জাতীয় দলের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি পাইয়ে দিতে কিংবা লাল কার্ড দেখে ‘সর্বনাশ’ করেছেন। তাদের কেউ কেউ নিয়মিত-ই সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া গত মৌসুমে মধ্যমাঠে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না করেও জায়গা করে নিয়েছেন কেউ কেউ।

এমন পক্ষপাতের কারণ হিসেবে ফুটবলপাড়া থেকে শোনা যায়, চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজনের সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ কাবরেরার বিশেষ সখ্যের কথা। স্প্যানিশ হওয়ার সুবাদে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়েছে অনেকের। বাংলাদেশ জাতীয় দল সামলানোর সুবাদে বসুন্ধরা কিংস কোচের ভালো ধারণা আছে এ দেশের ফুটবল নিয়ে। এ কারণে জাতীয় দল সামলানোর অভিজ্ঞতাহীন কাবরেরা তার দিকে ঝুঁকে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। এসব কারণেই দল নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সংখ্যাধিক্যে যেখানে বসুন্ধরার খেলোয়াড় বেশি সেখানে এবারের জাতীয় দলে আবাহনী লিমিটেডের মাত্র তিন জন ডাক পেয়েছেন। শেখ রাসেল থেকেও আছেন তিন জন। এছাড়া সাইফ স্পোর্টিং থেকে ৪, শেখ জামালের ২ জন। মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনী ও পুলিশ এফসির একজন করে সুযোগ পেয়েছেন।

তাই গঠনমূলক জায়গা থেকে প্রশ্নটা উঠছেই, প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখে কাবরেরা যদি দল গঠন করেই থাকেন; সেখানে প্রাথমিক দলে অন্যদের জায়গা মিললে ঠিক কী কারণে বাদ থাকলেন জীবন!