গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অডিট রিপোর্ট নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বর্তমান কমিটিকে। এক মিনিটেই পাস হয়ে গেছে। এক-দুজন কাউন্সিলর বাদে বাকিরা সন্তুষ্ট বাফুফের কার্যক্রম নিয়ে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আত্মতুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ (শনিবার) বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত আর্থিক বছরে বাফুফের ব্যয় ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং আয় ২৮ কোটি ৮০ লাখ আট হাজার টাকা। ঘাটতি ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। নতুন আর্থিক বছরে ৮ কোটি টাকার সম্ভাব্য ঘাটতি ধরে নতুন বাজেট করেছে বাফুফে। সেখানে সব খাত থেকে সম্ভাব্য আয় ৪১ কোটি ৯৫ লাখ ধরা হয়েছে।
ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাফুফে সভাপতি, ‘কংগ্রেস খুবই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাদেরকে এবার বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কীভাবে কী হচ্ছে, আর্থিক বিষয়, প্ল্যানিং- সব বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর উনারা যখন কথা বলেছেন, সন্তুষ্ট দেখা গেছে। অবশ্যই দু-একজন তো থাকবেই, যারা সন্তুষ্ট হবে না। কিন্তু সার্বিকভাবে সবাই সন্তুষ্ট।’
গতবারের অডিট দেখে প্রায় সবাই ‘হ্যাঁ’ সূচক মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন, ‘গতবারের অডিট এক মিনিটের মধ্যে পাস হয়েছে। অডিটটা দেখেই তারা বলেছে সব ঠিকঠাক আছে। অডিট রিপোর্ট নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি, তারা আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আমাদেরই দায়িত্ব এটা জোগাড় করা। যেহেতু আমরাই অর্থ জোগাড় করি- এ কারণে কেউ কোনও প্রশ্ন তোলেনি। আমরা আশা করি, এই ঘাটতি আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো।’
জেলা লিগ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন সালাউদ্দিন। বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা জেলা নিয়ে। আমরা যে লিগ করি, এটা করতে ফিফা কিন্তু আমাকে বাধ্য করে না। তারপরও আমি এটা আয়োজন করি। এটাই আমার কাজ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অনেকে নিজেদের জেলায় লিগ করেন না, উনারা তাকিয়ে থাকেন আমাদের দিকে, আমরা কীভাবে সাহায্য করবো সেদিকে।’
জেলা লিগ করতে টাকার প্রয়োজন। এ নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন চারবারের সভাপতি, ‘এই সমস্যা এখনও সমাধান করতে পারছি না। কেননা, আমি আমার কাজ করতে পারি, তাদের কাজ করতে পারি না। আমি কেবল তাদের সাহায্য করতে পারি। তারা খালি টাকা চায়; আমিও টাকা চাই, তারাও টাকা চায়। আমার কাছে যখনই টাকা এসেছে, তাদেরকে দিয়েছি। এর আগে সরকারের কাছ থেকে যে টাকা এসেছিল তার ৫০ শতাংশ তাদের দিয়েছি। টাকা থাকলে তো টাকা দিবো, না থাকলে কীভাবে দিবো?’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেরা টানা চার আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। যদিও মেয়েরা গত মাসেই নেপালকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে সানজিদারা। এজিএমে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানালেন সালাউদ্দিন, ‘কেউ তোলেনি (ফুটবলের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন)। আমিই বলেছি। সবশেষ সাফে মেয়েদের সাফল্যের কথা বলেছি। ছেলেদের দল নিয়ে কাজ হচ্ছে বলেও জানিয়েছি। আশা করি, ছেলেদের ফুটবলেও আমরা ফল পাবো।’
ফিফা থেকে কাউন্সিলরের সংখ্যা কমিয়ে আনার নির্দেশনা আছে। সেটা নিয়ে কাজ চলছে বলে মন্তব্য সালাউদ্দিনের, ‘একটা কংগ্রেস করতেও আমাদের ৩০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। আমাদের তো বিদেশিদের মতো (ফেডারেশনগুলোর মতো) আয় নাই। কিন্তু আমরা কাউন্সিলরদের সঙ্গে বন্ধন আরও দৃঢ় করার জন্য কংগ্রেস ধারাবাহিক রাখবো, যা যা করার করবো।’