কাতারের দোহায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে অনেক জায়গাতে বিশ্বকাপের ব্যানার টানিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া পুরো শহরে সেভাবে বড় রকমের আমেজ একটু কমই। এমনিতে দেশটিতে নিজেদের চেয়ে প্রবাসী কম নয়। তাদের একাংশ মিলিত হয়েছিলেন দোহার কর্নিসের ফ্ল্যাগ প্লাজাতে। বিশ্বকাপের রঙে রঙিন সবাই! ফিফার ফ্যান জোন হওয়াতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ অন্য দেশের নাগরিকরা নানান পতাকা নিয়ে হই-হুল্লোড় করে পুরো সময় মাতিয়ে রেখেছেন।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে কাতার ও বাংলাদেশের নামও উচ্চারিত হয়েছে তাদের কণ্ঠে। মিছিলও হয়েছে! শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী জায়গায় ফিফার সবকটি দেশের পতাকার নিচে যেন বিশ্বকাপের আমেজই মিলেছে। তবে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিড় ছিল একটু বেশিই। কাতারের বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রধান নাজমুল আকন এমন উৎসবমুখর পরিবেশ নিয়ে জানালেন, ‘ফ্ল্যাগ প্লাজা একটা ঐতিহাসিক স্থান। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে সবাই এসেছে। আমরা দুই দিন আগে বাংলাদেশ কমিউনিটি গ্রুপ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানে আসবো। আর এখানে জমায়েত হয়ে কাতারকে সাপোর্ট দিচ্ছি। আর এখানকার অনেকেই ভলান্টিয়ারি সার্ভিস দিচ্ছে।’
স্রোতের মতো মানুষ মিলিত হচ্ছিল ফ্ল্যাগ প্লাজের এক টুকরো জায়গায়। রাস্তায় ট্র্যাফিক সামলাতে জেরবার অবস্থা।
অবকাঠামো নির্মাণের পর অনেক শ্রমিককে দোহা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে আবার কিছু কিছু রয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে কাতারের প্রতি ভালোবাসা কম নয়। তেমনই একজন নারায়ণগঞ্জের বন্দরের জামাল হোসেন ৯ বছর ধরে কাতারে রয়েছেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। আল জানোব স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাটাই তাকে বিশ্বকাপের অংশ করে দিয়েছে, ‘এটা অনেক বড় গর্বের। কেবল শ্রম-ঘাম নয়, অনেক বাংলাদেশির রক্তও দিতে হয়েছে আজকের এমন দোহা গঠনে।’
উৎসবের আলোতে কাতারের বিশ্বকাপকে সবাই নিজেদের করে নিতে চাওয়ার এই এক টুকরো প্রয়াস।