রাশিয়া বিশ্বকাপ ভরাডুবির পর ২০১৯ কোপা আমেরিকায় ছিল হতাশা। সব মিলে একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দল ছিল আর্জেন্টিনার। সেই দলটাই অবিশ্বাস্য উত্থান দেখেছিল লিওনেল স্ক্যালোনির ছোঁয়ায়। টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডের পাশাপাশি দূর হয়েছে ট্রফি খরা। মেসির শেষ বিশ্বকাপে তাই স্মরণীয় কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন ছিল আলবিসেলেস্তেদের। কিন্তু কোথায় কী! সেই দলটার অপরাজেয় যাত্রার লাগাম টেনে ধরে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম অঘটনের জন্ম দিয়েছে সৌদি আরব। আর্জেন্টিনা হেরেছে ২-১ গোলে!
লুসাইল স্টেডিয়ামে ৪৮ মিনিটে রক্ষণের দুর্বলতায় হজম করা গোলটাই আর্জেন্টিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় মূলত। দ্বিতীয় গোল তুলে নেওয়ার পর সৌদির আঁটাসাটো রক্ষণের সামনে মেসিরা আর গোলমুখই খুলতে পারেনি। সেজন্য সৌদির দুর্দান্ত রক্ষণের পাশাপাশি গোলকিপারকেও অবদান দিতে হবে। ৮৪ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে মেসি হেড করেছিলেন। সেটি জমা পড়েছে আল ওয়াইসের নির্ভরযোগ্য হাতে। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় দেখা গেছে তার বীরত্ব।
অথচ প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। তাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে ৪৮ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলটার বিপক্ষে দ্বিতীয় মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার। ১২ গজ দূর থেকে মেসি জোরালো শট করেছিলেন। দারুণ রিফ্লেক্সে সেটি সেভ করেন সৌদি গোলকিপার আল ওয়াইস। তবে ১০ মিনিটে কোনও ভুল হয়নি। ভার রিভিউর পর পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপান মেসি।
তার পর হাইলাইন ধরে খেলার চেষ্টা করেছে সৌদি। তাতে বিপদটা বাড়ে আর্জেন্টাইনদেরই। বার বার অফসাইডে বাতিল হয়েছে তিন গোল। চাপ ধরে রেখে মেসি দ্বিতীয় গোল পেয়েছিলেন ২২ মিনিটে। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় বাতিল হয়ে যায় তা।
২৮ মিনিটে মার্তিনেজও জাল কাঁপিয়েছিলেন। এবারও তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় অফসাইড! ৩৪ মিনিটে আবার জাল কাঁপান মার্তিনেজ। পুনরায় অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আধিপত্যের ম্যাচে অফসাইডের আধিপত্যও ছিল চোখে পড়ার মতো- ৭টি।
তার পর তো ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে গেলো দ্বিতীয়ার্ধেই। ৪৮ মিনিটে সৌদি আরবকে সমতায় ফেরান সালেহ আল সেহরি। আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের ভুলে গোলপোস্টের নিচে একা দাঁড়ানো মার্তিনেজের করার কিছুই ছিল না।
দুর্বল রক্ষণের ফল হাতেনাতে মেলে ৫৩ মিনিটেই। স্কোরলাইন ২-১ করে সৌদি আরব মেসিদের পরাজয়ের সব আয়োজনই সম্পন্ন করে ফেলে তখন। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে পুরোপুরি পরাস্ত করেন সালেম আল দাওসারি। বাঁকানো শটে দূরের জাল কাঁপান সৌদি উইঙ্গার।
তালগোল পাকানো অবস্থায় আর ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থায় দেখা যায়নি মেসি-ডি মারিয়াদের। ৬২ মিনিটে ডি মারিয়ার ভাসানো বল মাথায় ছোঁয়াতে পারেননি মার্তিনেজ। পরের মিনিটেও দুর্দান্ত সেভে আর্জেন্টিনার হতাশা বাড়িয়েছেন সৌদি গোলকিপার। এর পর তো তাদের আঁটোসাটো রক্ষণে মেসিরা আর কুলিয়েই উঠতে পারেনি। তাতে লজ্জার হারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে ১৯৯০ সালের পর! সর্বশেষ ওই বছরই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ তারা হেরেছে ক্যামেরুনের কাছে। ব্যবধান ছিল ১-০। ১৯৩০ বিশ্বকাপেও শুরুতে ১-০ লিড নিয়ে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠে ছাড়তে হয়েছিল।