বাংলাদেশের নখদন্তহীন বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০৪ রান করেছে ভারত। এরপর চা বিরতির আগের ঘণ্টায় ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভুতুড়ে হয়েছে বাংলাদেশের। ৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করছেন অভিষিক্ত জাকির হাসান ও লিটন দাস। ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান তুলে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। জাকির ৯ রানে ও লিটন ২৪ রানে ব্যাটিং করছেন।
ইনিংসের প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকে সাজঘরে ফিরেছেন প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত। মোহাম্মদ সিরাজের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন। কিন্ত ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেট কিপার ঋষভ পান্তের হাতে। তাতে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে গোল্ডেন ডাকের লজ্জাজনক কীর্তির মালিক হয়েছেন তিনি। তার আগে হান্নান সরকার তিনবার, জাভেদ ওমর বেলিম দুইবার এবং তামিম ইকবাল ও নাফিস ইকবাল একবার করে ইনিংসের প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন।
শান্ত আউট হওয়ার পর নামেন প্রথমবারের মতো টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া ইয়াসির আলী। আরেক ওপেনার জাকিরকে সঙ্গে নিয়ে খুব বেশি দূর যেতে পারেননি যদিও। স্কোরবোর্ডে আরও ৫ রান যোগ হতেই দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে আউট হয়েছেন। শরীর থেকে বেশ দূরে থাকা বল খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। উমেশ যাদবের শর্ট লেন্থের কিছুটা নিচু হওয়া ডেলিভারি খেলতে গিয়ে বল লেগ স্ট্যাম্পে টেনে এনেছিলেন। তাতে স্ট্যাম্পে ভেঙে রাব্বি ১৭ বলে ৪ রানে ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ভারতীয় দলকে সাড়ে তিনশোতেই বেঁধে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। শ্রেয়াস আইয়ারকে এবাদত সেঞ্চুরি বঞ্চিত করে তার মঞ্চও তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অষ্টম উইকেটে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদীপ যাদবের প্রতিরোধ সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছে। ২০০ বল খেলে এই দুই ব্যাটার ৯২ রানের জুটি গড়েছেন (পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান যোগ হয়েছে)। লাঞ্চ থেকে ফেরার পর তো তারা দ্রুত রান তুলতে মরিয়া হয়ে উঠে। সেটি করতে গিয়েই স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়েছেন অশ্বিন। ১১৩ বলে ৫৮ রান করা ব্যাটারকে বিদায় দিতেই শেষ দিকের প্রতিরোধ স্থায়ী হয়নি তাদের।
অশ্বিন ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরেন কুলদীপও। ১১৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে তাইজুলের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হন তিনি। শেষ উইকেটে উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ সিরাজের ১১ রানের জুটিতে ৪০০ রান পার হয়েছে। উমেশ ১০ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। মিরাজের বলে লংঅনে মুশফিকের হাতে সিরাজ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিতেই ভারতের ইনিংস থেমেছে ৪০৪ রানে।
প্রথম দিন দুইবার জীবন পাওয়া আইয়ার জীবন পান দ্বিতীয় দিনেও। তখন তিনি ৮৫ রানে ব্যাট করছিলেন। এবাদতের শর্ট বলে হুক করতে গেলে বল লিটন দাস ফাইন লেগে তা লুফে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সেই এবাদতের বলেই ফিরতে হয়েছে তাকে। ফেরার আগে ১৯২ বলে ৮৬ রান করেছেন। তাতে ছিল ১০টি চার। গতকাল (বুধবার) শেষ বিকালেও এবাদত তাকে বোল্ড করেছিলেন। কিন্তু স্ট্যাম্পের বেলস না পড়ায় নিয়মঅনুযায়ী নটআউট থাকেন শ্রেয়াস।
চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম দিন ৬ উইকেটে ২৭৮ রানে শেষ করেছে। গতকাল শ্রেয়াস আইয়ার-পূজারার ব্যাট থেকেই আসে মূল প্রতিরোধ। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় জীবন পেয়েছেন দুজনেই। পূজারাকে শেষ বিকালে ৯০ রানে বিদায় দিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। তার পর মিরাজ অক্ষর প্যাটেলকেও ফেরালে পতন হয় ষষ্ঠ উইকেটের।
তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ চারটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ছিলেন বেশ নিষ্প্রভ। এছাড়া খালেদ ও এবাদত একটি করে উইকেট নিয়েছেন।