মরুর বুকে ইতিহাস গড়ে গেলো আর্জেন্টিনা

এক ট্রফির জন্য ৩৬ বছরের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে এসে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আকাশি-সাদাদের বাঁধভাঙা উৎসব হয়েছে। এমন দিনটির জন্যই অপেক্ষায় ছিল সবাই। প্রয়াত দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ট্র্রফি জয়ের পর শুধুই ছিল দীর্ঘশ্বাস। বার দুয়েক কাছাকাছি গিয়েও আর সোনালি ট্রফিতে চুমু খাওয়া হয়নি। এবার মরুর বুক থেকে আর শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়নি। ভাগ্যবিধাতা ঠিকই ম্যারাডোনার উত্তরসূরিদের ট্রফি স্পর্শ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

সমর্থকদের এমন দারুণ এক রাত উপহার দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই মেসি-আলভারেজরা আকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। অথচ আর্জেন্টিনার শুরুটা ছিল হতাশা দিয়ে। কে ভেবেছিল সৌদি আরবের কাছে পা হড়কাবে আর্জেন্টিনা? মেসির পেনাল্টি গোলের পরেও আরব দেশটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে যাবে!

লুসাইলের সেই ম্যাচটি পরবর্তী সময়ে আলবিসেলেস্তেদের বেশ তাতিয়ে দিয়েছিল। পরের ম্যাচগুলোতে অদম্য এক দলকে দেখা গেছে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স নিয়ে মাঠে হাজির হতে। প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘুড়িয়ে দাপট দেখিয়ে একের পর এক ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত ছুঁয়েছে আরাধ্য সেই ট্রফি!

এমন এক ট্রফির জন্য ছিল বহু বছরের অপেক্ষা। এমনিতে বলা হচ্ছে, দলের বড় তারকা লিওনেল মেসির কাতারেই শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। অন্তত তার জন্য হলেও যদি স্মরণীয় রাখা যায় কিছু। আর তা পেরেছেনও স্কালোনির শিষ্যরা।

লক্ষ-কোটি সমর্থকদের মন জয় করে নিয়ে রাতটি করে রেখেছে আলোকিত। মেসির নেতৃত্বে গতবারের সেরা ফ্রান্সকে হারিয়ে অসাধারণ এক ফাইনাল উপহার দিয়ে শিরোপা-উৎসবে মেতেছে সবাই।

পুরস্কার মঞ্চে তো ট্রফি দেওয়ার আগে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বড় চমক উপহার দিলেন। মেসির গায়ে তাদের রাজকীয় পোশাক পরিয়ে দিয়ে বড় করে সম্মানটা জানিয়ে রাখলেন। আর যাই হোক মরুর বুকে প্রথম বিশ্বকাপ। সেখানে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি উঠেছে। তাই চারদিকে খুশির ফল্গুধারা।

মেসি

সাধারণত কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হলে নিজ দেশে কিংবা নিজের শহরে ফেরার পর ছাদখোলা সংবর্ধনা পেয়ে থাকে। এবারই কাতারে ব্যতিক্রম। লুসাইলের রাস্তা আলোকিত করে রেখেছিল মেসি-ডি মারিয়ারা। নিজেদের সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তাৎক্ষণিকভাবে ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ করেছে। দুপাশে নিজেদের সমর্থকরা যোগ্য সমর্থন দিয়ে গেছেন।

লুসাইল তখন এক টুকরো বুয়েন্স আয়ার্স। ছাদখোলা বাসে চড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস করে মাতিয়ে রেখে রাতটি উপভোগ করেছে সবাই। এ যেন স্বর্গীয় আনন্দ।

প্রয়াত দিয়েগো ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসি। যার বাঁ পায়ের জাদুতে মোহিত সবাই। যার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটাও হয়েছে দেখার মতো। স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য। এমন দিনের জন্য বুঝি সাদা-আকাশি সমর্থকরা বহুদিন ধরে অপেক্ষায় ছিল। মেসি অবশেষে তাদের সেই চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা ঠিকঠাক পূরণ করতে পেরেছেন। তাই এই আনন্দের কোনও সীমা নেই।

ফুটবল জাদুকরের হাতে ট্রফি উঠেছে। খুশি অনেকেই। অনেকেই চাইছিল এবারের ট্রফি মেসির হাতে উঠুক। তাহলে ফুটবলে তার যে অবদান সেই ঋণ শোধ হবে। আর তা হয়েছেও! রাতজুড়ে সমর্থকরা যেভাবে ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’ বলছিল এর কোনও জবাবই নেই। কাতার বিশ্বকাপ এবার আর্জেন্টিনারই!