খুশির দিনে ভাইয়ের জন্য মন কাঁদছে ঋতুপর্ণার

ঋতুপর্ণা চাকমার পরিবারে আজ আরও একটি উৎসবের দিন। গত বছর সাফ জেতার পর সুসংবাদ বয়ে এনেছে এইচএসসি পরীক্ষার ফল। বিকেএসপির কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪. ৫০ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন রাঙামাটির এই ফুটবলার। এমন খুশির দিনে পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত বছর একমাত্র ছোট ভাইকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার। ভাই পার্বণ চাকমার কথা মনে হতেই ঋতুপর্ণার মনটা বারবার বিষণ্ন হয়ে পড়ছে। 

গত বছরের ২৯ জুন রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মগাছড়ি গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন পার্বণ চাকমা। নিজের বাসায় গোসলের জন্য পাম্পের সাহায্যে পানি তোলার সময় হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।

ঘাগড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র পার্বণ ছিলেন ঋতুপর্ণার খেলার সাথী। খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও বড় বোনকে উৎসাহ দিতেন। এমন দিনে ছোট ভাই বেঁচে থাকলে কতই না আনন্দ হতো তার। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তাই আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘সাফ জেতার পর ভাইকে অনেক মিস করেছি। আজ পরীক্ষায় ফল বের হওয়ার পর ওর কথা অনেক মনে পড়ছে। আমার খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা নিয়েও অনেক কথা হতো। সবসময় উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগাতো। যদিও আমার এক বছরের ছোট ছিল, তারপরও জীবনে ভালো কিছু যেন করতে পারি সেটা সবসময় বলতো। আজ ও বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতো। সাফ জেতার পর আজ আবার ওকে বেশি করে মনে পড়ছে।’

মাঠের খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাতে সাফল্যের নেপথ্যে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কে অন্যতম কারণ মনে করছেন লাল-সবুজ দলের ফরোয়ার্ড। তাছাড়া খেলাধুলা করলে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না- সেই ভ্রান্ত ধারণাও ভেঙে এগিয়ে চলেছেন তিনি। নিজের কঠোর পরিশ্রম নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেছেন, ‘সাফ জিতে এসে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছি। নারী লিগ খেলতে হয়েছে। এমনও হয়েছে খেলার পরের দিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। খেলা-পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে গেছি। কষ্ট হয়েছে, তবু হাল ছাড়িনি। এখন ফল দেখে ভালো লাগছে।’

ঋতুপর্ণা এখানেই থেমে থাকতে চাইছেন না। মাঠের খেলা তো চালিয়ে যাবেনই। এখন পড়াশোনাতে আরও মনোযোগ দিতে আগ্রহী, ‘সামনের দিকে আরও পড়াশোনা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। যেন নিজেকে আরও শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা যায়। পরিবারও সেটাই চায়। আর খেলা তো চালিয়ে যাবোই। এতে কোনও ছাড় নেই।’

ঋতুপর্ণার মতো অন্য নারী ফুটবলাররাও পড়াশোনাতে ভালো করছেন। চারদিক থেকে প্রশংসাও পাচ্ছেন তারা। আসলে সবাই খেলার পাশাপাশি সুশিক্ষিত হতে চাইছেন।