প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা রেসে টিকে থাকতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে হারাতে হতো আবাহনীর। কিন্তু শুক্রবার শুরুতে পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারলেও পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে! ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল দামাসেনার জোড়ায় আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা।
তাতে বসুন্ধরার সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়লো আবাহনীর। বসুন্ধরা ১০ ম্যাচে সবকটিতে জিতে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে প্রথম পর্ব শেষ করেছে। এক ম্যাচ কম খেলে আবাহনী ৫ জয় ও তিন ড্র এবং প্রথম হারে আগের ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে।।
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম হাইভোল্টেজ ম্যাচ পরিচালনা করতে গিয়ে ভুটানের রেফারিকে বারকয়েক হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে। তবে শুরু থেকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ নির্ভর ছিল ম্যাচ। দু’দলই হাই লাইন ডিফেন্স ধরে খেলেছে। তবে ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পায় আবাহনী। ম্যাচ ঘড়ির ৮ মিনিটে রহমতের ক্রসে কলিনদ্রেস হেড করলেও সেটি দূরের পোস্ট দিয়ে গেছে। তিন মিনিট পর রবিনহোর ফ্রি-কিক ক্রস বারের ওপর দিয়ে গেলে বসুন্ধরারও গোল পাওয়া হয়নি।
২৬ মিনিটে অবশ্য বসুন্ধরাই এগিয়ে গেছে। বক্সে ঢুকে রবিনহো দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে স্কয়ার পাস দেন মিগুয়েল দামাসেনাকে। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থেকে এই ব্রাজিলিয়ান নিঁখুত প্লেসিংয়ে গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলকে পরাস্ত করেছেন।
এক গোলে পিছিয়ে থেকে আবাহনী সমতায় ফেরার সুযোগ খুঁজছিল। গোল খাওয়ার দুই মিনিট পর মেরাজ হোসেনের নিঁখুত পাসে পিটার নোরাহ পোস্টে ঢুকে শট নিলেও গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো সেটি প্রতিহত করেছেন।
৩৬ মিনিটে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কলিনদ্রেসের কর্নারে পোস্টের একদম সামনে থেকে রেজাউল করিম লক্ষ্যভেদ করে আবাহনীকে সমতায় ফিরিয়েছেন। ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা অন্য পাশে থেকেও কিছু করতে পারেননি।
প্রথমার্ধের শেষ ৯ মিনিটও উত্তেজনায় ঠাসা ছিল। ৪৩ মিনিটে দোরিয়েলতনের আড়াআড়ি শট অল্পের জন্য দূরের পোস্ট দিয়ে গেছে। দুই মিনিট পর কলিনদ্রেস একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে শট নিলেও সেটি প্রতিহত করেন গোলকিপার।
যোগ করা সময়ে কলিনদ্রেসের পাসে কিংসলে জায়গা মতো পৌঁছে পা ছোঁয়াতে পারলে আবাহনী লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে পারতো।
বিরতির পর অবশ্য দু’দলের খেলাতে আগের তেজ দেখা যায়নি। বল নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে ঠিকই, তবে তা জোড়ালো ছিল না। বরং কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে খেলা পরিলক্ষিত হয়েছে।
৬৩ মিনিটে কিংসলে বক্সের প্রান্ত থেকে ফাঁকা পেয়েও লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি।৭৪ মিনিটে রবিনহোর শট বক্সের অনেক ওপর দিয়ে গেছে। তিন মিনিট পর ম্যাচ জমে ওঠে আবারও মিগেলের সৌজন্যে।
৭৭ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে ডিফেন্ডার রেজাউল করিম সহ অন্যরা জায়গা ছেড়ে ওপরে চলে আসেন। এই ফাঁকে মিগেল বক্সে ঢুকে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলকিপার শহিদুলের পাশ দিয়ে বসুন্ধরার ব্যবধান বাড়িয়ে নেন।
শেষ দিকে খেলোয়াড় বদল করেও আবাহনী হার এড়াতে পারেনি।