রিয়াল মাদ্রিদ-লিভারপুলের আসল লড়াইটা দ্বিতীয় লেগে!

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ভিন্ন এক দল। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে তাদের ট্রফি জয়ের রেকর্ডও একচেটিয়া। সেই দলটা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে প্রথম লেগে। অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। নিজেদের মাঠে রেডদের এত বড় ব্যবধানে পরাজয়ের এটা দ্বিতীয় নজির। 

বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই পরের পর্বের জন্য নিজেদের এগিয়ে রাখার কথা। কিন্তু মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত থাকতে পারছেন না। কারণ, প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক নজির ভীষণ সমৃদ্ধ লিভারপুলের। এই আনচেলত্তির এসি মিলানের বিপক্ষেই ২০০৫ সালে তিন গোলের ব্যবধান তারা ঘুচিয়েছিল। ২০১৯ সালে একই রূপ দেখেছে বার্সেলোনাও। আনচেলত্তির তাই দৃঢ়বিশ্বাস এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। সেটা অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় লেগে, ‘নকআউটের লড়াইয়ে এটা তো প্রথম অংশ গেলো। এবার হয়তো আমাদের পক্ষে এসেছে। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে আমাদের ভুগতে হবে এটা কল্পনা করা লাগবে। তাই কঠিন পরিশ্রম করতেই হবে।’

ম্যাচে শুরুর ১৪ মিনিটে দুই গোল দিয়ে উল্লাসে মেতেছিল লিভারপুল। ৪ মিনিটে নুনেজের গোলের পর ১৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন মোহাম্মদ সালাহ। তার পর স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিতে ভিনিসিয়ুস ২১ ও ৩৬ মিনিটে করেন জোড়া গোল। ৪৭ মিনিটে এদের মিলিতাও ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন। বাকি সর্বনাশটা করেছেন কারিম বেনজিমা। রিয়ালের প্রাণভোমরা ৫৫ ও ৬৭ মিনিটে দুই গোল করে লিভারপুলকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন।

গত বছর নকআউটে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষেও এমনটা হয়েছিল। ২ গোল হজম করেছিল শুরুতে। পার্থক্যটা হলো সেবার প্রথম লেগে ৪-৩ গোলে হারলেও এবার ম্যাচ জিতে তারা মাঠ ছেড়েছে। আনচেলত্তিও স্বীকার করলেন এমন শুরু তিনি প্রত্যাশা করেননি, ‘এমন শুরু প্রত্যাশা করিনি। গত বছরের ম্যানসিটির বিপক্ষে অ্যাওয়ে লেগের কথা মাথায় ঘুরছিল যে হয়তো সেবারের মতো গোল করে ব্যবধান কমাতে পারবো। কিন্তু এবার তার চেয়েও ফলাফল ভালো হয়েছে।’

তার পরেই তার সতর্কবার্তা, ‘লিভারপুল অসাধারণ একটি দল। প্রথমার্ধে আমাদের কঠিনভাবে ভুগিয়েছে। তাই আমাকে বলতেই হচ্ছে লড়াইটা শেষ হয়ে যায়নি। কোনওভাবেই না।’