গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে গোলের তুবড়ি ছুটিয়ে রেকর্ড ভেঙেছেন আর্লিং হাল্যান্ড। ম্যানচেস্টার সিটিকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে একাই ৫ গোল করেছেন! তাতে এক মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ২২ বছর বয়সীর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯। যা ১৯২৮-২৯ মৌসুমে টমি জনসনের করা ৩৮ গোলের রেকর্ডে ছাড়িয়েছে। হয়তো এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হতো। রচিত হতো ইতিহাস! সেটি হয়নি সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা তাকে ৬৩ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নিলে!
শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে জার্মান ক্লাবটিকে ৭-০ গোলের মালা পরানো ম্যাচটায় গোলের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন নরওয়ের এই তারকা। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল ৫টি। হাল্যান্ড সেই রেকর্ড স্পর্শ করায় আর একটি গোল করলেই ইতিহাস গড়তে পারতেন। কিন্তু বেরসিক গার্দিওলা তাকে উঠিয়ে দিয়ে আলোচনার জন্ম দিলে পরে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার কথায় এটা পরিষ্কার হাল্যান্ডের কথা ভেবেই এমনটা করেছিলেন তিনি, ‘যদি ২২ বছর বয়সেই সে এই মাইলফলক অর্জন করতো। তাহলে তার জীবন অচীরেই বিরক্তিকর হয়ে যেত। এখন সে ভবিষ্যতে সেটি করার জন্য লক্ষ্য ঠিক করবে। সেটা যে কোনও জায়গায় হোক না কেন। আমি এই কারণে তাকে উঠিয়ে নিয়েছিলাম।’
চ্যাম্পিনস লিগে এক ম্যাচে ৫ গোল করা তৃতীয় খেলোয়াড় হচ্ছেন হাল্যান্ড। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন লুইস আদ্রিয়ানো শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে ২০১৪ সালে এবং বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি ২০২১ সালে। গার্দিওলা ওই সময় বার্সার কোচ ছিলেন। কিন্তু সিটির ম্যাচের পর জানিয়েছেন তখন ওই বিষয়ে কিছুই জানতেন না তিনি, ‘মেসির ওই বিষয়টা আমি জানতাম না। প্রথম সাক্ষাৎকারের সময় তারা বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে বলেছিল।’
গোলমুখে ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার হাল্যান্ডকে বুলডোজারের মতো মনে হচ্ছিল। তার বিধ্বংসী মনোভাবের কারণেই দুই লেগ মিলিয়ে ৮-১ গোলে জয়ের স্বাদ পেয়েছে সিটি। বেশ কিছু সুযোগ মিস না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।