বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচ দেখার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে

২০২১ সালে কোপা আমেরিকায় প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতার পর গত ডিসেম্বরে নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র আক্ষেপ ঘুচান বিশ্বকাপ জিতে। লিওনেল মেসি চাইলে অবসর নিয়ে ফেলতে পারতেন। কারণ তার সাফল্যের মুকুটে সেরা পালক যুক্ত হয়ে গেছে। তবে ওখানেই থামতে চাননি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ট্রফি ছুঁয়ে দেখার পর বলেছিলেন, ‘আমি অল্প সময়ের মধ্যে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জিতলাম। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ভালো লাগে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমি আরও কিছুদিন খেলতে চাই আমি।’ মেসির সেই চাওয়ার শুরু হচ্ছে এবার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার বুয়েন্স আয়ার্সে পানামাকে স্বাগত জানাবে আজেন্টিনা। গত বছর বিশ্বকাপ জয়ের পর এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচ দেখতে কতটা অধীর আর্জেন্টাইনরা, তা একটা তথ্যে পরিষ্কার। এল মনুমেন্টালে আসনসংখ্যা ৮৩ হাজার। অথচ এই ম্যাচের টিকিট চেয়ে আবেদন পড়েছে ১৫ লাখ! শুধু আর্জেন্টাইনরা কেন, বাংলাদেশি ভক্তরাও অধীর অপেক্ষায়।

এমনটা প্রত্যাশিত। কারণ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখার রোমাঞ্চ তো অন্যরকম। গত বছর ডিসেম্বরে উত্তেজনার রেণু ছড়িয়ে ফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারায় টাইব্রেকারে। কিলিয়ান এমবাপ্পের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক ছাপিয়ে মেসির জোড়া গোল ও গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরোচিত সেভ এনে দেয় বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

অথচ বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার শুরু হয়েছিল সৌদি আরবের কাছে অবিশ্বাস্য হার দিয়ে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে সব বাধা পেরিয়ে সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেন মেসিরা। সেই সাফল্য উদযাপনেই ঘরের মাঠে কনকাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। চারদিন পর কুরাকাওয়ের সঙ্গে আরেকটি ম্যাচ। দুটো ম্যাচই প্রীতি।

আগামী সেপ্টেম্বরের আগে আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই শুরু হচ্ছে না। এতদিন তো আর অপেক্ষা করা মানায় না। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপন ঘরের মাঠে করতে এই আয়োজন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল ব্রাজিলের পরে থাকা আলবিসেলেস্তেরা এর আগে দুইবার পানামার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৯ সালের মেতে ৩-১ গোলে প্রীতি ম্যাচ জিতেছিল এবং ২০১৬ সালের জুনে কোপা আমেরিকা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মেসির দ্বিতীয়ার্ধের হ্যাটট্রিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষকে। স্বাভাবিকভাবে শুক্রবারও একই ফলের প্রত্যাশায় থাকবে তারা।

২০১৯ সালে কোপায় ব্রাজিলের কাছে হারের পর থেকে সবশেষ ৪৩ ম্যাচে মাত্র একবারই হেরেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ জয়ী দল নিয়েই পানামার মুখোমুখি হচ্ছে তারা। বিশ্বকাপ জিতে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া থাকছেন। জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ ও পাওলো দিবালাকেও দেখা যাবে।

এই অভিজ্ঞ দলের কাছে পানামা কতটা টিকতে পারবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ বুধবার কোস্টারিকার বিপক্ষে কনকাকাফ নেশনস লিগ সামনে রেখে ২০ জনের কম অভিজ্ঞ একটি দল ঘোষণা করেছেন পানামা কোচ থমাস ক্রিস্টেনসেন। এই দলটি আবার শেষ তিনটি ম্যাচই করেছে ড্র, আর শেষ ১০ ম্যাচে জয় মাত্র তিনটি।

এই অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে মেসির দুটি মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। একটি গোল করলেই ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৮০০ গোলের কীর্তি গড়বেন তিনি। আর দুটি গোল করলে জাতীয় দলের হয়ে হবে গোলের সেঞ্চুরি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম ম্যাচেই এমন অর্জনের উপলক্ষ পেয়েও নিশ্চয় হাতছাড়া করতে চাইবেন না মেসি! এখন হয়তো প্রশ্ন হবে, কয়টি গোল করবেন এলএমটেন আর কত গোলে জিতবে আর্জেন্টিনা? নাকি পানামা উৎসুক আর্জেন্টাইন দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দেওয়ার মতো কিছু করে ফেলবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে কাল সকাল পর্যন্ত, ম্যাচটি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায়।