ম্যানসিটিকে আবেগে ভাসতে বারণ করলেন গার্দিওলা

চতুর্থবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলছে ম্যানচেস্টার সিটি। এবারের আসরে শেষ চারে খেলা তারাই একমাত্র দল, যারা কখনও ট্রফি ছুঁয়ে দেখেনি। এবার কি তাদের সেই আক্ষেপ ঘুচবে? বলে দেবে সময়, আপাতত পার হতে হবে রিয়াল মাদ্রিদ দেয়াল। প্রথম লেগে যাদের মাঠ থেকে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে ফিরেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টরা। বুধবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ১৪ বার ট্রফি জেতা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাবে সিটিজেনরা। ঘরের মাঠ বলে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে তারা, কিন্তু দলকে আবেগে না ভেসে শান্ত থাকতে বললেন কোচ পেপ গার্দিওলা।

আগের তিন সেমিফাইনালে কেবল একবার উতরে যেতে পেরেছিল ম্যানসিটি। যে দুইবার তারা শেষ চার থেকে ছিটকে গেছে, প্রত্যেকবারই তাদের সামনে ছিল রিয়াল। এই তো গত আসরের কথা। প্রথম লেগে ৪-৩ গোলে ঘরের মাঠে জিতেছিল। পরে বার্নাব্যুতে ১-০ গোলে এগিয়েও যায়। কিন্তু ইনজুরি টাইমে রদ্রিগোর জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ যায়, যেখানে করিম বেনজেমার পেনাল্টি গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। আর ২০১৬ সালে প্রথম সেমিফাইনালে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করার পর রিয়ালের মাঠে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় সিটি।

রিয়ালের বিপক্ষে এই দুটি অভিজ্ঞতার কারণে এবার আরও সতর্ক গার্দিওলা। গত সপ্তাহে উজ্জীবিত হওয়ার মতো পারফরম্যান্স করলেও রিয়ালকে বিদায় করতে আরও অনেক ভালো খেলতে হবে বললেন তিনি।

মঙ্গলবার ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ম্যানসিটির স্প্যানিশ কোচ বললেন, ‘আমরা খুব ভালো বোধ করছি, আমাদের অনুভূতি ইতিবাচক। কিন্তু এই বাধা পেরিয়ে যেতে আমাদের গত সপ্তাহের চেয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে। তারা বহু বছর ধরে কী পুনরাবৃত্তি করছে সেটা জানি, সেভাবেই আমাদের খেলতে হবে। এটা শুধু সাহস আর দৃঢ়তার ব্যাপার নয়। বার্নাব্যুর চেয়েও ভালো কিছু করতে হবে আমাদের। আবেগে ভাসা যাবে না।’

এই ম্যাচে কাউকে ফেভারিট মানছেন না গার্দিওলা, ‘আমি জানি না। সেটা বলার মতো সামর্থ্য নেই আমার। প্রতি মৌসুমে আমরা নকআউটে খেলছি, শেষ পর্যন্ত যে দল জয়ের দাবিদার, তারাই জিতছে। আমার মাথায় একটাই চিন্তা, ভালো খেলতে হবে এবং ভক্তদের সামনে দেখাতে হবে যে আমাদের ভিন্ন কিছু করার দরকার নেই।’

রিয়ালের বিপক্ষে গত দুটি সেমিফাইনালেই দ্বিতীয় লেগ অ্যাওয়ে খেলেছিল ম্যানসিটি। এবার ফিরতি লেগ ঘরের মাঠে। এই ব্যাপারটি ভালো করতে উদ্বুদ্ধ করছে গার্দিওলাকে, ‘আমাদের অনুভূতি হলো ঘরে আমরা আরও বেশি স্বাধীন এবং আরও নির্ভার থেকে খেলতে পারবো। যদি আমরা আমাদের মতো খেলি... আমি দশটি সেমিফাইনাল খেলেছি এবং হেরেছি সাতটিতে। আমি অনুভুতিটা জানি, কিন্তু ফুটবল বিশ্বে অনেক কিছুই আছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।’