চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ভাগ্য বদলাতে পারছিল না ম্যানচেস্টার সিটি। দু’বার স্প্যানিশ জায়ান্টদের কাছে হেরেই সেমির মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এবার অবশ্য কোনও ভুল করেনি সিটিজেনরা। ইতিহাদে আধিপত্য ধরে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে তাদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। তাতে দুই লেগ ৫-১ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে স্বপ্নের ফাইনাল।
পুরো ম্যাচেই একাধিপত্য ছিল সিটির। রিয়াল মাদ্রিদ মাঝে মাঝে আক্রমণে গিয়ে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেগুলো ছিল নখদন্তহীন! বল দখলেই সিটি এগিয়ে ছিল ৫৯ শতাংশ। রিয়াল ৪১ শতাংশ। লক্ষ্য বরাবর শট নেওয়ার পরিসংখ্যান দেখলে বলতে হবে মাঠে এটা কোন রিয়াল? সিটির ৮ শটের বিপরীতে তাদের শট ছিল মাত্র ৩টি। তাছাড়া প্রথম ১৫ মিনিটেই সিটি পাস দিয়েছে ১২৪টি। সেই জায়গায় রিয়াল মাদ্রিদের পাসের সংখ্যা মাত্র ১৩।
ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া স্বীকার করেছেন, সিটির হাইপ্রেসিংয়ে খেই হারায় তারা। নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি ঠিকমতো, ‘শুরু থেকে ওরা হাইপ্রেসিং গেম খেলবে সেটা প্রত্যাশিত ছিল। তারা এতটা চাপ দিচ্ছিল যে আমাদের খেলোয়াড়দের নিজেদের অর্ধেই সময় কাটাতে হয়েছে।’
এটা সত্যি শুরুর দিকে আক্রমণের ঢেউ তুলে রিয়ালকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে পেরেছিল সিটি। এই চাপই তাদের স্বাভাবিক খেলায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ম্যাচে দারুণ কিছু সেভ করা কুর্তোয়ার কথা, ‘প্রাথমিকভাবে হয়তো সেটা সামলানো গেছে। কিন্তু আমরা নিজেদের খেলা খেলতে পারছিলাম না। এমনকি সুযোগ তৈরি করা তো দূরের কথা। ওদের বিপদেও ফেলতে পারিনি। তাতে ওরা আরও চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছে।’
প্রথমার্ধে বের্নার্দো সিলভার জোড়া গোলে সিটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিলেও কুর্তোয়ার মতে, টনি ক্রুস যে শটে ক্রসবারে আঘাত করেছেন, সেটি জালে জড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হলেও হতে পারতো। সেটি না হওয়ায় আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘গত বছরের মতো ম্যাচটা আমাদের পক্ষে যায়নি। প্রথমার্ধে আপনারা দেখেছেন যে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টানোর একটা ইচ্ছা আমাদের ছিল। কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। যার মাশুল দিয়েছি।’