ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আধিপত্য থাকলেও ইউরোপের ক্লাব সেরার টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টার সিটির বলার মতো কিছু নেই। অথচ আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা নেওয়ার পর এই স্বপ্ন পূরণেই লেগে আছে। গত তিন বছরে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে তারা। ইস্তাম্বুলে আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার দিবাগত রাত ১টায় তাদের প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলান। সিটি কি পারবে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে স্বপ্নপূরণের আনন্দে মাততে?
সর্বশেষ ২০২০-২১ মৌসুমে প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নেমে ব্যর্থ হয়েছিল সিটি। সেই দলটির সঙ্গে এবারের দলটির পার্থক্য অবশ্যই আছে। আর সেটা গড়ে দিয়েছেন গোল মেশিন আর্লিং হাল্যান্ড। প্রাণভোমরায় ভর করে এবার আদর্শ একটা ছন্দ নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে ইংলিশ জায়ান্টরা। শেষ ২৬ ম্যাচে হার দেখেছে মাত্র একটি। ইউরোপিয়ান মৌসুমেও অপরাজেয়। ১২ ম্যাচে জিতেছে ৭টিতেই।
ইংলিশ দলটির হয়ে গার্দিওলাও ‘প্রথম’ ইউরোপিয়ান সাফল্যের পেছনে ছুটছেন ২০১১ সালে বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জয়ের পর। তার পর সিটিকে নিয়ে প্রথম ট্রেবল জয়ের লক্ষ্যেও ছুটছেন তিনি। কাগজে-কলমে যদি দেখা যায় তাহলে ২০০৮-০৯ মৌসুমের বার্সার চেয়েও বড় হুমকি এবারের ম্যানসিটি। সেবারে ফাইনালের আগে স্প্যানিশরা একটি ম্যাচ মাত্র হেরেছে। গোল করেছে ৩২টি, হজম করেছে ১৩টি। সেই জায়গায় সিটির গোল ৩১টি। কিন্তু হজম করেছে মাত্র ৫ গোল!
সিটি কোচকে যখন প্রশ্ন করা হলো এবারের সাফল্যের সম্ভাবনা কতটুকু? তার জবাব এভাবেই দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘তখন আমার দলে মেসি ছিল, এবার হাল্যান্ড। আমার সাফল্য এখানেই... আমি মোটেও মজা করছি না, এটাই সত্যি।’
এই ইন্টারের সঙ্গে আবার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে স্প্যানিশ কোচের। ২০১০ সালে ট্রেবল জয়ের লক্ষ্যে থাকা বার্সা সেমিফাইনালে ছিটকে যায় ইন্টার মিলানের কাছে পরাজিত হয়েই। তখন ইতালিয়ান দলটির কোচ ছিলেন হোসে মরিনহো। এবার অবশ্য সিটি ইন্টারের বিপক্ষে প্রথমবার মুখোমুখি। গার্দিওলা অবশ্য অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। তিনি বরং স্বপ্ন পূরণের কথা ভাবছেন, ‘অবশ্যই এটা স্বপ্ন। আর সেটা পূরণ করতে হলে অবশ্যই ঘোর-ইচ্ছার মাঝে অনুপাত ঠিক রাখা দরকার।’