বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে পাত্তা পেলো না অস্ট্রেলিয়া

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আর্জেন্টিনার অন্যতম বাধা ছিল অস্ট্রেলিয়া। শেষ ষোলোয় সকারুদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল! সেই একই দুটি দল আজ বেইজিংয়ে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। পার্থক্য হলো আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় নিয়ে খেলতে নেমেছিল। তাতে অবশ্য প্রত্যাশিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল মেসির দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে।     

লিওনেল মেসিকে রেখে শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছিলেন স্ক্যালোনি। তার সঙ্গে মিডফিল্ডে ছিলেন সদ্য লিভারপুলে যোগ দেওয়া ম্যাক অ্যালিস্টার। তারা খেলতে নেমেছিল ৪-৩-৩ ছকে। বিপরীতে ৪-১-৪-১ ছকে খেলতে নামে সকারুরা।

বেইজিং বরাবরই দু’হাত ভরে দিয়েছে মেসিকে। যার প্রমাণ ২০০৮ অলিম্পিক। চীনের শহরেই আর্জেন্টিনা স্বর্ণ জিতেছিল। সেমিফাইনালে মেসি করেন জোড়া গোল। এদিনও আর্জেন্টিনা ২ মিনিটে (৮০ সেকেন্ড) এগিয়ে যায় বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের গোলে। নিজেদের অর্ধে অস্ট্রেলিয়ার লেকি বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি পেয়ে যান ফার্নান্দেস। এই মিডফিল্ডারের পাস নেওয়ার জন্য জায়গা মতো অবস্থান নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তারপর বাঁকানো শটে দর্শনীয় গোলে স্কোর ১-০ করেছেন মেসি। যা সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ক্যারিয়ারের দ্রুততম গোল। 

৫ মিনিটে আরেকটি সুযোগ এসেছিল। কিন্তু শট বারের ওপর দিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। ১৬ মিনিটেও গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগ ছিল সদ্য লিভারপুলে যোগ দেওয়া তারকার। কিন্তু গনজালেসের দেওয়া ভলি নেওয়ার আগেই সেটি বিপদমুক্ত করেছেন রোওয়েলস।

মিচেল ডিউক ও জর্ডান বোসের মিলিত চেষ্টায় সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ২৮ মিনিটে বোসের থেকে পাওয়া ভলিতে শট নিয়েছিলেন ডিউক। এমি মার্তিনেজ শুরুতে সেটি সেভ করেছিলেন। কিন্তু বল ঠিকমতো গ্লাভসে জমাতে পারেননি। ভাগ্য ভালো আলগা বলটি তারপর পোস্টে আঘাত করেছিল। ততক্ষণে ডাইভ দিয়ে বল আয়ত্তে নেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

৬৮ মিনিটে পেজেল্লার হেডে আসে দ্বিতীয় গোল। অবশ্য এই গোলে অবদান ছিল মেসি-দে পলের রসায়নের। শর্ট কর্নারের পর দুজনের বল আদান প্রদানের মাধ্যমে দে পল ভাসানো ক্রস করেছিলেন। আনমার্কড পেজেল্লা সুযোগ পেয়ে হেড করে তা জালে পাঠাতে ভুল করেননি। তারপর আর ব্যবধানে হেরফের হয়নি।

বাছাই পর্বের ৬টি ম্যাচ দিয়ে বছর শেষের অপেক্ষায় থাকা আলবিসেলেস্তেরা ভালো করেই জানে ছন্দ ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে সেই পরীক্ষায় সাফল্য নিয়ে মাঠ ছাড়লো তারা।