‘আল আজরাক’- ডাকনাম তাদের। মানে নীল। আরেকটি নাম আছে ‘নীল ঢেউ’। বলা হচ্ছে, এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি কুয়েতের কথা। অবশ্য তাদের পাশে পরাশক্তি কথাটা এখন ঠিক খাটে না। অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে তারা। তবে এবার সুযোগ, নতুন করে এশিয়াকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জানিয়ে দেওয়ার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনও ট্রফির স্বাদ না পাওয়া কুয়েত এবার সাফে অংশ নিচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাসনা নিয়েই।
আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এবার খেলছে না সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। তাদের শূন্যস্থান পূরণে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। সাফ অঞ্চলের বাইরে থেকে আমন্ত্রণ পেলেও সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া নাকচ করেছে। শেষ পর্যন্ত জায়গা পূরণ হয়েছে কুয়েত ও লেবাননকে দিয়ে। এই প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে দুটি দেশই। তাদের অংশগ্রহণে বেঙ্গালুরুতে বুধবার থেকে হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে আশা আয়োজকদের।
অংশ নিতে যাওয়া আট দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে লেবানন। ৯৯তম তারা। এরপর আছে ভারত (১০১)। তার পরেই কুয়েতের (১৪৩) অবস্থান। কুয়েতের ফুটবল বেশ পুরোনো। ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তারা, এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। অ্যারাবিয়ান গালফ কাপে রেকর্ড দশবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি। ২০১০ সালে শেষবার এই ট্রফি জিতেছিল তারা, তারপর সেরা সাফল্য তৃতীয় হওয়া, সেটাও ২০১৩ সালে। এরপর টানা চার আসরে প্রত্যেকবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে দলটি।
এছাড়া আরব কাপ, এশিয়ান কাপ, ওয়েস্ট এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপেও কুয়েতের পা পড়েছিল। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় সময়টা ছিল ১৯৮২ সালে। ওইবার স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। চেকস্লোভাকিয়ার সঙ্গে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে চমক দেখায় তারা। পরে শক্তিশালী ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে রূপকথার গল্প লেখা হয়নি।
২০১০ কুয়েতের জন্য এক সোনালি বছর। ওই বছর এশিয়ান কাপ, ওয়েস্ট এশিয়ান ফেডারেশন কাপ ও অ্যারাবিয়ান গালফ কাপের চ্যাম্পিয়ন তারা। তারপর থেকে ট্রফি খরায় ভুগছে কুয়েত।
মাঝে কলঙ্কিত অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছিল কুয়েত ফুটবল। ২০১৫ সালে ফিফা নিষিদ্ধ করে তাদের। কারণটা ছিল ফুটবল ফেডারেশনের কাজে হস্তক্ষেপ করছিল দেশটির প্রশাসন। দুই বছরেরও বেশি সময় পর ২০১৭ সালে ফিফা তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
শাস্তি উঠে গিয়ে ফুটবলে পা পড়লেও কুয়েত সোনালি অতীত ফিরে পায়নি। শেষ দুটি এশিয়ান কাপের জন্য বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি তারা। গালফ কাপেও গ্রপ পর্বেই বাদ পড়েছে। যদিও নিজেদের খেলা সবশেষ তিন ম্যাচে ফিলিপাইনস, তাজিকিস্তান ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে জিতে সাফে পা রাখছে তারা। মিশরে হওয়া সবশেষ প্রীতি ম্যাচে জাম্বিয়াকে ৩-০ গোলে এবং সুদানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে।
পর্তুগিজ কোচ রুই বেন্তোর অধীনে সাফল্যের হার বেশি কুয়েতের। গত বছর আগস্টে পর্তুগাল বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেন ৫১ বছর বয়সী কোচ। তার অধীনে ছয় ম্যাচ খেলে চারটি জিতেছে কুয়েত, আর হার একটি, অন্যটি ড্র। বেন্তো নিশ্চিতভাবে সবশেষ চার ম্যাচের অজেয় মর্যাদা ধরে রাখতেই চাইবেন।
আগামী ২১ জুন নেপালের বিপক্ষে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে কুয়েত। পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও ভারত। ১৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মোক্ষম সুযোগ তাদের সামনে। চেনাজানা প্রতিযোগিতাগুলোতে ব্যর্থতা দেখতে দেখতে মুখ থুবড়ে পড়া কুয়েত এবার অচেনা রণক্ষেত্রে নীল ঢেউ তুলে সব বাধা ছাপিয়ে দেশে ফিরতে চাইবে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।