সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেছে লেবানন ও কুয়েত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকে কিংবা বর্তমান পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে দেশ দুটি শিরোপা লড়াইয়ে বেশ সামনে রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ বলে পরিচিত টুর্নামেন্টে যাদের নিয়ে আসল লড়াই হওয়ার কথা তারাও বা পিছিয়ে কোথায়! বিশেষ করে আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যারা মুড়ি-মুড়কির মতো ট্রফি জিতে চলেছে। এছাড়া শিরোপা দৌড়ে রয়েছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও নেপালের দলগুলোও।
একটা কথা বলে রাখা ভালো। যেখানে লেবানন-কুয়েতের মতো দেশ রয়েছে, সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর জন্য শিরোপা জেতা আসলেই পাহাড়সম বাধা টপকানোর মতো ব্যাপার। এই অঞ্চলে ভারত ভালো ফর্মে আছে। এই তো চার দেশের কন্টিনেন্টাল কাপে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে থাকা লেবাননকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে তারা।
দলে রয়েছে সুনীল ছেত্রীর মতো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। যার পায়ে বল যাওয়া মানে ক্ষুরধার কিছু গোলের সম্ভাবনা। ফাইনালে গোল করে ছেত্রী নিজের অবস্থান আবারও জানান দিয়েছেন।
ভারত ফেভারিট হলে বাকিরা চোখ রাঙানোর মতো সামর্থ্য রাখে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও নেপালের সম্ভাবনা কম নয়। সেমিফাইনালে যেতে পারে যে কেউই। এই যেমন শুরুতে বাংলাদেশর কথা ধরাই হোক। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা চাইছেন পুরো দলকে এক করে খেলাতে। দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়রা রয়েছেন। এরমধ্যে মজিবর রহমান জনি তো গোল করে আগমনী বার্তা দিয়েছেন।
যদিও ২০০৫ সালের পর থেকে কখনও সেমিফাইনালের দরজায় পা দেওয়া হয়নি বাংলাদেশের। গতবার মালদ্বীপে নিজেদের ভুলের কারণে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ছিটকে যেতে হয়েছে। এবার বেঙ্গালুরুতে সেই ভুলটি করতে চাইছেন না কেউই। হয়তো পুরো দল এক হয়ে খেলতে পারলে সম্ভাবনাই উঁকি দিচ্ছে।
মালদ্বীপ দলে সবচেয়ে বড় তারকা আলী আশফাক এবার নেই। গত সাফ থেকে ১০ জন খেলোয়াড় এবার বাদ পড়েছেন। নিজের দেশের সাফ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ইতালির কোচ ফ্রান্সেস্কো মরেইরো দায়িত্ব নিয়েছেন। একটি দল হয়ে খেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা।
সবশেষ জাপানে আবাসিক ক্যাম্প করেছে দলটি। দলটির সহকারী কোচ আলী সুজেইন তো বলেই দিয়েছেন, সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য তারা বেঙ্গালুরুতে খেলবেন।
২০০৮ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন দলটির ঐতিহ্য কম নয়। তিনবার রানার্সআপও হয়েছে। টেকনিক্যালি দলটি এগিয়ে। আলী আশফাককে ছাড়া এবার তারা কী করে তা দেখার আছে। তবে দ্বীপদেশটি যে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
যদিও দেশটি শেষ মুহূর্তে এসে ফাইনালের দেখা পেয়েছে কমই। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায় গতবার শুধু রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কুয়েতের কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি এবার নেই। ইতালির কোচ ভিনসেঞ্জো আলবার্তো এনিসে দায়িত্ব নিয়েছেন। দলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। তাদেরও অনেক কিছু প্রমাণের রয়েছে। তবে গ্রুপে ভারত-কুয়েতকে টপকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটা বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান ও ভুটান কম শক্তিধর দেশ নয়। পাকিস্তান তো প্রবাসী নির্ভর দল নিয়ে খেলতে আসছে। ভুটান ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। তাই যেকোনও দলের বিপক্ষে দেশ দুটি চমক দেখাতেও পারে!