দক্ষিণ এশিয়ার ‘বিশ্বকাপ বলে অভিহিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে বুধবার। আট দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ তাদের অভিযান শুরু করছে বৃহস্পতিবার থেকে। প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজ দলের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী লেবানন। ‘বি’ গ্রুপে বিকাল ৪টার ম্যাচটিতে শুরু থেকে ইতিবাচক নৈপুণ্য দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় হাভিয়ের কাবরেরার দল।
যদিও এই ম্যাচ নিয়ে উচ্চাশা নেই বাংলাদেশ কোচের। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে আছে আরব দেশ লেবানন। আছে ৯৯তম স্থানে। বিপরীতে বাংলাদেশ রয়েছে ১৯২তম স্থানে। শক্তিতে এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে শতভাগ দিয়ে খেলাকে সম্বল মনে করছেন হাভিয়ের কাবরেরা। জয়ের লক্ষ্য থাকলেও কমপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে চান তিনি, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, শতভাগ দিয়ে আগামীকালকের ম্যাচে চেষ্টা করবো। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে এ সবকিছু নির্ভর করছে নিজেদের ওপর। অবশ্যই বাংলাদেশও শক্তিশালী। আমরা মাঠে যাবো তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে। সেটা যদি না হয়, কমপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই।’
বেঙ্গালুরুতে আগে গিয়ে কৃত্রিম টার্ফে বাংলাদেশ অনুশীলন করেছে। তবে খেলা হবে ঘাসের মাঠে। কাবরেরা অবশ্য এমন প্রস্তুতিতে সমস্যা দেখছেন না, ‘টার্ফে অনুশীলন করতে হয়েছে, কোনও উপায় ছিল না। সবাইকেই টার্ফে অনুশীলন করতে হয়েছে। তবে ওখানে সব ধরণের সুবিধা ছিল। আমরা কাল যেখানে ম্যাচটা খেলবো, সেটা ঘাসের মাঠ, টার্ফের চেয়ে অনেক গতিময় হবে।’
সব কিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশ দলের দৃষ্টি এখন লেবানন ম্যাচেই। স্প্যানিশ কোচ বলেছেন, ‘এখন মনযোগের বেশিরভাগটা লেবাননের দিকে। একই সঙ্গে পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষের দিকেও মনযোগ দিতে হবে। আবাহাওয়া নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। আমাদের হয়তো অনেক গরমের মধ্যে খেলতে হবে। তবে সেটা বড় কোন সমস্যা নয়।’
বাংলাদেশ দল বেঙ্গালুরুতে আসার আগে কম্বোডিয়ায় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে। যা সাফ মিশন শুরুর আগে লাল-সবুজদের উজ্জীবিত রাখার রসদও। লেবানন ম্যাচ নিয়ে দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও আশাবাদী। কিন্তু প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় বাস্তবতাও মাথায় রাখছেন তিনি, ‘আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। কালকে ফাইনাল পরীক্ষা, সেটায় পাস করতে চাই। অবশ্যই জিততে চাই। এক পয়েন্ট নিতে পারলেও খুশি হবো। কারণ, ওরা ৯০ এর ওপরে আমাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। চাইবো তিন পয়েন্ট নিতে। কিন্তু এটাও বুঝি কাজটা কঠিন। লেবানন অনেক শক্তিশালী।’
লেবানন উড়িষ্যায় চার জাতি টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছে। দলটা কিছুটা ক্লান্তও। প্রতিপক্ষের এই ক্লান্তিকেই সুযোগ হিসেবে দেখছেন জামাল, ‘শেষ ১২ দিনে ওরা চারটা ম্যাচ খেলেছে। তাতে করে ওরা একটু ক্লান্ত আছে। কারণ ১২ দিনে চারটা ম্যাচ খেলা মোটেই সহজ না। সেখানে হয়তো আমাদের বাড়তি কিছুটা সুবিধা থাকবে।’