স্ট্রাইকার ছাড়াই বাংলাদেশের জয়জয়কার!

ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর বয়স ৩৮ বছর। অথচ এখনও দলকে দারুণভাবে টেনে নিচ্ছেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এরইমধ্যে নামও উঠে গেছে তার। প্রথাগত স্ট্রাইকার হয়ে দারুণ অবদান রাখছেন তিনি। বিপরীতে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে প্রথাগত স্ট্রাইকারের কোনও ভূমিকা ছাড়া! 

লেবাননের বিপক্ষে সুমন রেজাকে নম্বর নাইন হিসেবে খেলানো হলেও কিছুই করতে পারেননি। তবে হাভিয়ের কাবরেরা পরের দু’ম্যাচে ছকে বদল আনতেই মিলেছে সাফল্য। ৪-৩-২-১-এর বদলে ৪-৪-২ ছকে খেলে মালদ্বীপ ও ভুটানকে ধরাশায়ী করেছে। দুই ম্যাচে গোল এসেছে ৬টি! এরমধ্যে ৫টি গোল করেছেন উইঙ্গার কিংবা ডিফেন্ডাররা। অন্যটি আত্মঘাতী থেকে এসেছে। 

এমনিতে বাংলাদেশের স্ট্রাইকার সংকট অনেক আগে থেকে। আলফাজ-এমিলির পর সেভাবে যোগ্য স্ট্রাইকার উঠে আসেনি। নাবীব নেওয়াজ জীবনরাও পারেননি নিজেদের প্রমাণ করতে। আর কাবরেরার সময়ে তো স্ট্রাইকাররা গোলই পাচ্ছেন না! এই বছর সেশেলস, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছেন ডিফেন্ডার কিংবা উইঙ্গাররা। স্ট্রাইকাররা ব্যর্থ হচ্ছেন বারবার!

মূলত সাফে ৪-৪-২ ছকে বিল্ডআপ ফুটবল খেলাতে গোল করতে পারদর্শী হচ্ছেন যে কেউ। এখানে ‘নম্বর নাইনের’ ভূমিকাও গৌণ। যদিও চার মিডফিল্ডারের মধ্যে জামালকে দেখা যাচ্ছে সামনে এসে খেলতে। দুই ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলা শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেন দলের কাজ সহজ করে দিচ্ছেন। আগে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে কাউকে সেভাবে গোল করতে দেখা যেতো না। সেখানে দুই গোল করে মোরসালিন কাজ আরও সহজ করে দিচ্ছেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন রাকিবও। 
অধিনায়ক জামাল যেমন বলে আসছেন, দলে শুধু স্ট্রাইকাররা গোল করবেন তা নয়, যে কেউ-ই করতে পারেন। এখন সেটা বাস্তবে পরিণত করছেন তারিক-রাকিবরা।
বাংলাদেশ এখন বিকল্প ছকে খেলাতেই সফল হচ্ছে। ১ জুলাই সাফে সেমিফাইনালে বড় বাধা কুয়েত। শক্তিশালী কুয়েতের বিপক্ষে মোরসালিন-রাকিবরা কেমন করেন সেটাই এখন দেখার।