সোমবার রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চল। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। কেন্দ্র ছিল সিলেটের কাছে আসাম মেঘালয় রিজিওন। ঢাকা থেকে ২২৮ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে। এই দেশের মানুষ ভূমিকম্পের সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হলেও বিদেশি অনেকেরই ঠিক বিপরীত অবস্থান। এই যেমন মালদ্বীপের ক্লাব ঈগলস। এই দেশে এসে যেন ভূমিকম্পের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হলেন দ্বীপদেশটির কোচ ও খেলোয়াড়রা!
এএফসি কাপের প্লে অফ ম্যাচ খেলতে এসে সিলেটে অবস্থান করছেন ক্লাব ঈগলস ও আবাহনী লিমিটেডের খেলোয়াড়রা। রাত ৮ টা ৪৯ মিনিটের ভূমিকম্পে তাদের হোটেল রুম কেঁপে উঠে। বিশেষ করে মালদ্বীপের কেউই এমন পরিবেশের সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত ছিলেন না। হোটেল রুম যেভাবে কেঁপে উঠেছে, তাতে করে বড় ভয় পেয়েছিলেন তারা।
ক্লাবটির কোচ মোহাম্মদ শিয়াজ নিজেই বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন এভাবে, ‘আমি আমার রুমে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রুমের সবকিছু দুলছে। শুরুতে বুঝে উঠতে পারেনি। তবে পরক্ষণে বুঝে উঠতেই রুম ছেড়ে নিচে নেমে চলে এসেছিলাম। শুধু আমি নই, সব খেলোয়াড়ও নিচে নেমে এসেছিল। নিচে নেমে হোটেলের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলাম, আসলে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’
এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা মালদ্বীপের ক্লাবটির সবারই নতুন বলতে হবে। সিলেটের স্থানীয় হোটেলে অষ্টম ও নবম তলায় কোচ ও খেলোয়াড়রা উঠেছেন। শিয়াজ বলেছেন, ‘আসলে মালদ্বীপে আমরা ভূমিকম্পের সঙ্গে পরিচিত নই। সিলেটের এই সময়টুকু মনে হচ্ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। হোটেলের বাইরে ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর আবার সবাই যার যার হোটেলে ফিরে যাই। ভাগ্য ভালো কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে যতদিন বেঁচে থাকবো, এই ঘটনা ততদিন মনে থাকবে।’
ক্লাব ঈগলসের পাশাপাশি আবাহনী লিমিটেডের কোচ ও খেলোয়াড়দের ভীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। নগরীর আরেক হোটেলের অষ্টম তলায় থাকা কোচ মারিও লেমসও ভয় পেয়ে যান। ভূমিকম্প চলাকালে তিনি নিজেও অন্যদের সঙ্গে নিচে নেমে অবস্থান করেন। পর্তুগিজ কোচ লেমস বলেছেন, ‘হঠাৎ দেখি সবকিছু দুলছে। ভূমিকম্পের সঙ্গে আগে থেকে কিছুটা পরিচিত ছিলাম। তাই দেরি না করে নিচে নামার চেষ্টা করি। খেলোয়াড়সহ অন্যরাও নেমে যায়। ভয় পেয়ে যাই। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আবারও রুমে ফিরে যাই। এটা আমার জীবনে প্রথম ঘটলো। এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আগে কখনও হইনি।’
আগামী বুধবার দুই দল মুখোমুখি হবে। তার আগে ভূমিকম্পের দুলুনিতে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো সবাইকে!