অনেক স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের লিগে খেলছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সোল দে মায়োর হয়ে অভিষেকেই গোল করেছেন, জিতেছেও দল। তবে এ কয়দিনে জামালের নানান অভিজ্ঞতা হয়েছে। বর্তমানে জামাল জাতীয় দলের ক্যাম্পে রয়েছেন। আজই প্রথম অনুশীলনে নামতে যাচ্ছেন। তবে এর আগে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে আর্জেন্টিনায় অল্প দিনের খেলার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন।
এ কয়েকদিন আর্জেন্টিনাতে কেমন সময় কেটেছে?
জামাল: ভালো কেটেছে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। যেমনটি আশা করেছিলাম এর চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি।
সেটা কেমন..
জামাল: ওখানে ক্লাব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই বেশ ইতিবাচক। সবাই মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে নানানভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এতটা আসলে আমি আশা করিনি।
প্রবাসীরাও তো দেখলাম বেশ আগলে রেখেছে..
জামাল: হ্যাঁ। এটা আসলেই অবাক করা বিষয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মাঠের খেলাতে প্রবাসীরা আমাকে দারুণভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। এটা আসলে এতটা হবে ভাবতে পারেনি। এমনকি তারা আমার ফ্ল্যাটে রান্না করে খাবার পাঠাচ্ছে। তাদের এমন উষ্ণ অভ্যর্থনায় মনে হয়েছে আমি দেশেই আছি!
সোল দে মায়োর হয়ে প্রথম ম্যাচ খেললেন। অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
জামাল: খুব ভালো। প্রথম ম্যাচে গোল পেলাম। দল জিতলো। তবে ওখানে খেলাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ফিজিক্যাল খেলে থাকে সবাই। সুযোগ পেলেই মারামারি করে।
এমন পরিবেশে তো আগে কখনও খেলা হয়নি?
জামাল: নাহ, এবারই প্রথম। তবে আমাকে চ্যালেঞ্জ তো নিতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। সব বুঝে শুনেই তো এখানে এসেছি। আগেই আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি (সাবেক কোচ) আমাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছিল। আর একজন খেলোয়াড় হিসেবে যে কোনও পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়াই বড় বিষয়।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ তো মনে হচ্ছে আপনাকে পেয়ে অনেক খুশি?
জামাল: হ্যাঁ, তারা বেশ খুশি। তারা আমাকে বেশ সহযোগিতা করছে। প্রথম ম্যাচে আমার সম্মানে অধিনায়ক করা হয়েছে। লাল সবুজের আদলে জার্সি পরে খেলেছি। সেখানে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেছি। যেখানে ক্লাব সভাপতি বড় ভূমিকা রেখেছেন। আসলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের ফুটবলকে তারা এখন অন্যরকম সম্মানের চোখে দেখে।
আপনি তো ১৫ মাসের চুক্তিতে খেলছেন। এখানে আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
জামাল: এখানে বেশ ঠাণ্ডার মধ্যে খেলতে হচ্ছে। রাতে মাইনাস হয়ে যায় তাপমাত্রা। গত ১০ বছরে আমি এমন আবহাওয়াতে খেলিনি। এখানে খেলার ধরন ভিন্ন। আমি আগেই বলেছি। দলে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার খেলোয়াড়ও রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্লাব ও প্রবাসীরা যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করছে তাতে করে যেভাবেই হোক দেশের সম্মান রাখতে হবে। আমাকে নিয়মিত পারফর্ম করে যেতে হবে। যেন ভবিষ্যতে অন্য খেলোয়াড়দেরও খেলার সুযোগ থাকে।
ভাষাগত সমস্যা একটু হচ্ছে মনে হয়?
জামাল: তা তো একটু হচ্ছেই। ক্লাব সভাপতি থেকে শুরু করে কোচসহ সবাই স্প্যানিশে কথা বলে। আমার জন্য বোঝাটা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদিও আমার জন্য ট্রান্সলেটর আছে। তারপরও আমি অল্প সল্প স্প্যানিশ শেখার চেষ্টা করছি।
শুরুতে অবসর মনে হয় সেভাবে পাওয়া হয়নি?
জামাল: ঠিক তেমন নয়। শুরুতে সবাই আসছে। পরিচিতি, অনুশীলন ও ম্যাচ খেলেছি। তবে কিছুটা অবসর সময়ে ঘুরেছি। এই দেশটা ভালোই লাগছে।
ম্যারাডেনা-মেসির দেশে খেলছেন। ভালো তো লাগারই কথা..
জামাল: হ্যাঁ, এই দেশে ফুটবল ভীষণ জনপ্রিয়। এখানে না আসলে বোঝা কঠিন। আমি অনেক অনেক স্বপ্ন নিয়ে এখানে খেলছি। তৃতীয় বিভাগ হলেও এর কাঠামো অনেক ভালো। আমি চাই আমার মাধ্যমে দল উপকৃত হোক। এতে করে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি পাবে। এমনিতে ওরা বাংলাদেশকে অন্যরকম চোখে দেখে। কারণ ওরা দেখেছে মেসিদের কেমন করে বাংলাদেশের মানুষ সমর্থন করেছে, ভালোবাসে।
আপনার সমর্থকরা বলছে ঘরোয়া ফুটবলে আপনাকে তারা আর পাচ্ছে না?
জামাল: হ্যাঁ, আমি তো ১৫ মাস আর্জেন্টিনার ক্লাবে খেলবো। অধিকাংশ সময় সেখানে খেলতে হবে। তবে দেশের হয়ে তো খেলবোই। এই এখন যেমন এসেছি।
দেশের প্রসঙ্গে আসি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে এসেছেন। লক্ষ্য কী?
জামাল: আমরা সাফে যেমন পারফরম্যান্স করেছি সেই খেলা ধরে রাখতে চাই। নিজেদের মাঠে জয়ের লক্ষ্য তো থাকবেই। ভাই আমাকে অনুশীলনে যেতে হবে। আজ আর নয়...