পিছিয়ে পড়ে এবার দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বসুন্ধরা কিংস। এএফসি কাপের ডি গ্রুপের ফিরতি পর্বের ম্যাচে মোহনবাগান এগিয়ে গেলেও দুই ব্রাজিলিয়ানের নৈপুণ্যে ম্যাচ জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশি জায়ান্টরা। মিগেল দামাসেনা ও রবিনিয়োর লক্ষ্যভেদে কিংস ২-১ গোলে মোহনবাগানকে প্রথমবার হারিয়ে সবাইকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে।
মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনাতে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ নির্ভর ম্যাচ হয়েছে। দুই দলই গোলের সুযোগ পেয়ে একটির বেশি করতে পারেনি। তবে ম্যাচ শুরুর ৬ মিনিটে মোহনবাগান এগিয়ে যেতে পারতো। মানভির সিংয়ের কোনাকুনি শট বাইরের জাল কাঁপায়।
দুই মিনিট পর দোরিয়েল্তনের বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট গোলকিপার দ্বিতীয় দফায় তালুবন্দি করলে কিংসের এগিয়ে যাওয়া হয়নি। ১৩ মিনিটে রবিনিয়োর বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট অল্পের জন্য পাশ দিয়ে যায়।
১৭ মিনিটে মোহনবাগান এগিয়ে যায়। বাঁপ্রান্ত থেকে জেসন কামিন্সের ক্রসটি গোলকিপার মেহেদী হাসান পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি, বক্সের ভেতরে থাকা লিস্টন কোলাসো ফাঁকায় বল পেলে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করতে ভুল হয়নি।
একের পর এক সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হচ্ছিল কিংসের। ২১ মিনিটে চার্লস দিদিয়েরের ডিফেন্সচেড়া পাস থেকে দোরিয়েল্তন ফাঁকায় থেকে পোস্টের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।
৪৪ মিনিটে অবশেষে স্বস্তি। চার্লস দিদিয়েরের পাসে বক্সের কয়েক গজ দূরে ব্রাজিলিয়ান মিগেল বল পেয়ে ঘুরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বিশাল কাইতকে পরাস্ত করেন। নতুন করে জেগে উঠে কিংস অ্যারেনা।
বিরতির পর কিংসের আধিপত্য বেশি দেখা গেছে। দারুণ পাস খেলে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে একের পর চাপ সৃষ্টি করেছে। ৫১ মিনিটে রবিনিয়ো বক্সে ঢুকে দেখেশুনে যে শটটি নেন, তা দূরের পোস্টে লেগে গোল হয়নি। একটু পর রবিনিয়োর শট দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়।
৮০ মিনিটে কিংস এগিয়ে যায়। দিদিয়েরের পাসে দোরিয়েল্তন বক্সে ঢুকে লক্ষ্যে শট না নিয়ে ব্যাক পাস দেন রবিনিয়োকে, ফাঁকায় থেকে তার বুদ্ধিদ্বীপ্ত নিচু শট গোলকিপারের বিপরীত দিক দিয়ে জালে জড়ায়।
মোহনবাগান ফাঁকে সুযোগ পেলেও সমতায় ফিরতে পারেনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ভারতের ঐতিহ্যবাহী কোনও দলকে দীর্ঘদিন পর হারের স্বাদ দিয়ে কিংস অন্যরকম এক ইতিহাসই গড়লো।
মঙ্গলবারের এই জয়ে গ্রুপে মোহনবাগানের সঙ্গে ৭ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে চলে এসেছে। নক আউট পর্বে যেতে হলে আজকের কিংস অ্যারেনাতে স্বাগতিকদের জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাববার কিছু ছিল না। তবে অস্কার ব্রুজনের দল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ অন্য কিছু হতে দেয়নি।