যে অপরাধে নিষিদ্ধ হলেন মামুনুল-জাহিদ

মামুনুল ও জাহিদ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, মাদক সেবন ও অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্যই জাতীয় দল থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তাদের বক্তব্য তদন্ত কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এছাড়া মামুনুল তদন্ত কমিটির কাছে মিথ্য কথা বলেছেন বলেও প্রমাণিত হয়েছে। যে অপরাধটি আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ন্যাশনাল টিমস কমিটি।
এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারবেন না খেলোয়াড়রা। এমনকি ন্যাশনাল টিমস কমিটি তাদের যে শাস্তি দিয়েছে, তাতে বাফুফে নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আজ বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

আজ বুধবার বাফুফেতে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়গুলো জানান বাফুফে সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, 'আমরা দিন দশেক আগে এক সভায় সাতজন খেলোয়াড়কে সাময়িক বহিষ্কার করেছিলাম। এরপর তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বক্তব্য তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে দেখে এবং একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে। তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত সাত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।' 

তিনি আরও বলেন, 'মামুনুল ও জাহিদ দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত। মদ্যপান তথা মাদক সেবনের মতো অপরাধও তারা করেছন। তাছাড়া মামুনুল আচরণবিধি ভেঙে প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। অথচ তিনি এসব অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে অস্বীকারও করেছেন, যা গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। সবদিক বিচার করে মামুনুল ও জাহিদকে জাতীয় দল থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।'

cdac52a9-b670-4415-a108-483e1c2718c2কাজী নাবিল আরও বলেন, 'ইয়াসিন খান ও সোহেল রানার আপরাধের গভীরতা কম বলে তাদের ছয় মাস বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা চারজন তাদের শাস্তি চলাকালীন জাতীয় দলের জন্য গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবেন না, তবে তারা ক্লাবের হয়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারবেন। তবে ইয়ামিন মুন্না, শহিদুল আলম সোহেল ও আতিকুর রহমান মিশুকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হবে। তাদেরকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে বলা হয়েছে। যদি জাতীয় দলের কোচ তাদের ডাকেন তবে তারা উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।'

কাজী নাবিল বলেন, 'শাস্তির ব্যাপারে খেলোয়াড়দের আপিল করার কোনও সুযোগ নেই। আমরা সতর্ক ছিলাম যাতে লঘু পাপে গুরু দণ্ড বা গুরু পাপে লঘু দণ্ড না হয়ে যায়। আমরা চেয়েছি যাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। এখানে খেলোয়াড়দের আপিল করার কোনও সুযোগ নেই, আর এ শাস্তির জন্য জাতীয় দলে ব্যাপক কোনও প্রভাব প্রভাব পড়বে না।'

সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় অারও উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্য ইলিয়াস হোসেন, সত্যজিৎ দাস রুপু, ও আমিরুল ইসলাম বাবু।

/আরএম/এমআর/